
ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেই তাঁর বাড়ি ও আশপাশে গিয়ে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এ জন্য ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি হয়, এমন হাসপাতাল থেকে নিয়মিত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা সিটি করপোরেশনের কর্মীদের।
কিন্তু উদ্যোগের শুরুতেই সমন্বয় ও নজরদারির ঘাটতি দেখা গেছে। রাজধানীর দুটি হাসপাতালে গিয়ে নির্ধারিত তথ্য সংগ্রহকারীদের পাওয়া যায়নি। কোনো হাসপাতালে কয়েক দিন ধরে সিটি করপোরেশনের কাউকে দেখেননি কর্মীরা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ কেউ আবার ওই দিনই প্রথম তথ্য সংগ্রহে হাসপাতালে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে একসঙ্গে পরিচালনা করতে ১০টি অঞ্চলে তদারকি কমিটি করেছে। সদস্যদের প্রতিদিন সকালে মাঠে গিয়ে কাজ তদারক করার কথা থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত সেটা হচ্ছে না। একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সর্বশেষ কবে কোথায় তদারকিতে গেছেন, তা-ও মনে করতে পারেননি। আবার একটি অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ দেড় মাসের বেশি সময় ধরে ফাঁকা থাকলেও সেখানে নতুন করে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৬০১। অর্থাৎ ১৮ দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। মৃত্যু ৫৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪।
হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহে ফাঁক
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ১৭ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা তানিয়া আক্তার ও আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ফোন ধরেননি। নুর হায়াত নামের আরেক কর্মীর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের চারতলায় ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত ৪২০ ও নারীদের জন্য নির্ধারিত ৪২২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৪২০ নম্বর ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সর্বশেষ ৯ ও ১০ আগস্ট তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে।
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৩১০। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৬০১। অর্থাৎ ১৮ দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। মৃত্যু ৫৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪।
৪২২ নম্বর ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ ফাতেমা শিকদার বলেন, তিনি সর্বশেষ ১২ ও ১৩ আগস্ট করপোরেশনের কর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখেছেন। ১৬ ও ১৭ আগস্ট কেউ তথ্য নিতে আসেননি।
১৪ ও ১৫ আগস্ট রাতে দায়িত্বে থাকা ফাতেমা ওয়ার্ডের সহকারী জ্যোৎস্না বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনিও জানান, ওই দুই দিন কেউ তথ্য নিতে আসেননি।
শিশু হাসপাতালেও দায়িত্বপ্রাপ্তদের অনুপস্থিতি
একই দিন সকালে শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে গিয়েই একই চিত্র পাওয়া গেছে। ওই হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করার দায়িত্ব রাকিবুল ইসলাম, রাসেল রানা ও রূপম—এই তিনজনের। কিন্তু সেদিন তাঁদের কাউকেই ওই হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। পরে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা রাকিবুল ইসলাম বেলা পৌনে ১১টার দিকে মুঠোফোনে বলেন, তিনি তখন মশা নিধনের কাজে ছিলেন। কাজ শেষে দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালে যাওয়ার কথা তাঁকে বলা হয়েছে।
আগের কয়েক দিনের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিবুল বলেন, আজই (১৭ আগস্ট) প্রথমবার হাসপাতালে যাচ্ছেন। আগে অন্য কেউ তথ্য নিয়েছেন কি না, তা তিনি জানেন না।
পরদিন ১৮ আগস্ট বেলা একটার দিকে আবার সেখানে গেলেও তাঁদের কাউকে পাওয়া যায়নি। ডেঙ্গু কর্নারের নার্সিং ইনচার্জ নিপা খাতুন জানিয়েছেন, সেদিন কেউ তথ্য সংগ্রহে আসেননি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহকারীদেরও এদিন সময়মতো পাওয়া যায়নি। তবে দুপুরের পর তিন কর্মীকে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা তানিয়া আক্তার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ১৭ আগস্ট সকালে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি সভা থাকায় তাঁরা হাসপাতালে যেতে পারেননি। সভা শেষে দুপুরের পর হাসপাতালে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
আগের দিনও একই কারণে হাসপাতালে যেতে পারেননি বলে জানান তানিয়া। তাঁর দাবি, ১৪ ও ১৫ আগস্ট তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ডেঙ্গু ওয়ার্ডের নার্সরা তাঁদের দেখেননি—এ কথা জানানো হলে তানিয়া বলেন, তাঁরা প্রথমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাহমুদা আলী বলেন, শিশু হাসপাতালে এক দিন পরপর সপ্তাহে তিন দিন তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সোমবার তথ্য নেওয়া হয়েছে, তাই মঙ্গলবার কেউ যাননি। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ১ আগস্ট থেকে ১০টি নির্বাচিত হাসপাতালে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারটি হাসপাতালে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুরুতে তিন দিন পরপর প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত থাকলেও বেশি রোগী ভর্তি হয় এমন হাসপাতালে এখন প্রতিদিন প্রতিনিধি পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বিশেষায়িত ও নিবেদিত জনবল না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে; অভিজ্ঞতার সঙ্গে এটি আরও গুছিয়ে নেওয়া হবে।ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, ডিএনসিসি
দুটি হাসপাতালে দেখা তথ্য জানানো হলে ইমরুল কায়েস সমন্বয় ও নজরদারির কিছু ঘাটতির কথা স্বীকার করেন। তাঁর ভাষ্য, বিশেষায়িত ও নিবেদিত জনবল না থাকায় শুরুতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। উদ্যোগটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে; অভিজ্ঞতার সঙ্গে এটি আরও গুছিয়ে নেওয়া হবে।
দক্ষিণের তদারকিতেও গলদ
ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির জন্য কমিটি করা হয়েছে। প্রতিদিন সকালে মাঠে গিয়ে কাজ তদারক করার কথা কমিটির সদস্যদের। অঞ্চল-৬-এর কমিটির আহ্বায়ক ডিএসসিসির সম্পত্তি কর্মকর্তা হাসিবা খান। সর্বশেষ কবে মাঠপর্যায়ে তদারকিতে গেছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এক্স্যাক্ট ডেটটা মনে নাই, হয়তো এক-দেড় সপ্তাহ আগে গিয়েছি।’ পরে তিনি ডেমরার একটি এলাকার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিদিন মাঠে যাওয়ার কথা থাকলেও হাসিবা খান বলেন, ‘ওইটা আমরা করি। কিন্তু প্রতিদিন যে যাওয়া, সেটা হয় না।’ তাঁর ভাষ্য, সম্পত্তি কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর নিজস্ব কাজও আছে; তদারকির দায়িত্বটি অতিরিক্ত দায়িত্ব।
তদারকি হচ্ছে কি না, কীভাবে করা হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, কমিটির অন্য সদস্যরা প্রতিদিনই যাচ্ছেন। হোয়াটসঅ্যাপে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিনের কাজের হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
ডিএসসিসির আরেক অঞ্চলের তদারকি কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটি গঠনের পর কিছুদিন সবাই মাঠে গেলেও পরে ধীরে ধীরে তা বন্ধ হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষেরও এ নিয়ে বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও নিজ নিজ দপ্তরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তিনি নিজেও সর্বশেষ কবে তদারকিতে গেছেন, তা মনে করতে পারেননি।
এক অঞ্চলের তদারকির পদ খালি
অঞ্চল-৫-এর তদারকি কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন ডিএসসিসির যান্ত্রিক প্রকৌশল শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনিছুর রহমান। বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় দুই মাস আগে তাঁকে বগুড়া সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়েছে। এ কারণে অঞ্চল-৫–এ তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদটি এখন খালি আছে। কিন্তু সেখানে বিকল্প কোনো কর্মকর্তাকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন কমিটির অন্য সদস্যরা।
২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে মশা নিধনে দুই সিটি ব্যয় করেছে ৬০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসি ৪০৯ কোটি এবং ডিএসসিসি ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ডিএনসিসি ২০৮ কোটি এবং ডিএসসিসি ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর দেননি। যদিও এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ১০টি অঞ্চলের মনিটরিং দলের সদস্যরা প্রতিদিন মাঠে গিয়ে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারক করছেন এবং কাজের অগ্রগতি জানাচ্ছেন।
পাঁচ বছরে ব্যয় ৬০৫ কোটি টাকা
মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। এডিসের প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস, বিশেষ অভিযান, বাড়ি বাড়ি অভিযান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, প্রচারণা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে মশা নিধনে দুই সিটি ব্যয় করেছে ৬০৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডিএনসিসি ৪০৯ কোটি এবং ডিএসসিসি ১৯৬ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। চলতি অর্থবছরে এই খাতে ডিএনসিসি ২০৮ কোটি এবং ডিএসসিসি ১১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
ওষুধ নিয়ে বিতর্ক, পদ্ধতিতেও প্রশ্ন
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৯৬৪ সালে দেশে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হলেও ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে রোগটি দেখা গেছে। ২০০০ সালে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাবের পর এটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা হয়ে ওঠে। ২০১৯ সালে ভয়াবহ প্রকোপে ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন আক্রান্ত ও ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়।
এর পরের বছর থেকেই বছরব্যাপী মশা নিয়ন্ত্রণে নামে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। ডিএনসিসি ২০২০ সাল থেকে লার্ভা নিধনে ‘নোভালিউরন’ ব্যবহার করছে। ওষুধটির কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের আপত্তি থাকলেও এখনো তা ব্যবহার করা হচ্ছে; দক্ষিণ সিটিও ব্যবহারের জন্য পরীক্ষা চালাচ্ছে।
২০২৩ সালে তৎকালীন মেয়র আতিকুল ইসলাম যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি সফরের পর ফগিংকে ভুল পদ্ধতি ও অর্থের অপচয় বলেছিলেন। অথচ দুই সিটিই এখনো ফগিং করছে; ডিএনসিসি দিনে দুই বেলা ফগিং করছে।
ডিএনসিসির লার্ভা নিধনে আনা বিটিআই আমদানিতেও জালিয়াতি ধরা পড়ে। মার্শাল অ্যাগ্রোভেট নামের একটি প্রতিষ্ঠান চীন থেকে আনা এই ওষুধকে সিঙ্গাপুরের বেস্ট কেমিক্যালের পণ্য বলে দাবি করেছিল। প্রথম আলো কাস্টমসের নথি যাচাই করে ওই জালিয়াতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
পরে ঠিকাদারকে কালোতালিকাভুক্ত করে ডিএনসিসি বিটিআই কেনা বন্ধ করে। একই সময়ে জেনেটিকা ইন্ডাস্ট্রিজের কাছ থেকে নোভালিউরন-০.৮পি বাজারদরের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ বেশি দামে কেনার অভিযোগও ওঠে।
এদিকে প্রতারণা ও ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের দায়ে ডিএনসিসির কালোতালিকাভুক্ত ঠিকাদার মিজানুর রহমান খান এখন ডিএসসিসিতে মশার ওষুধ সরবরাহ করছেন। ‘দি লিমিট এগ্রোপ্রোডাক্টস লিমিটেড’ নামে কালোতালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির মালিক মিজানুর নতুন প্রতিষ্ঠান ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে ডিএসসিসিতে ওষুধ সরবরাহ করছেন।
ওষুধ-যন্ত্রে বড় মজুত, জনবলও কম নয়
ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, এই সিটিতে সকালে টেমিফস দিয়ে লার্ভা নিধন এবং বিকেলে ম্যালাথিয়ন ৫৭ ইসি ৫ শতাংশ মাত্রায় মিশিয়ে ফগিং করা হয়। ম্যালেরিয়া ওয়েল-বি ও নোভালিউরনও ব্যবহার করা হয়। নতুন করে সরকারি হাসপাতালগুলোয় মশা ধরার ফাঁদ বসানোর পরিকল্পনাও আছে।
ডিএনসিসিতে দিনে প্রায় ৫০ লিটার লার্ভিসাইড ও ৩ হাজার ৫০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োজন হয়। মজুত আছে ৮ হাজার লিটার লার্ভিসাইড, ৯৬ হাজার লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ও ৪৬০ কেজি নোভালিউরন। এই সিটিতে মশক নিয়ন্ত্রণে ৮৩ জন সুপারভাইজার ও ১ হাজার ৬৪ জন কর্মী রয়েছেন। স্প্রে মেশিন ১ হাজার ৫৭৩টি, ফগার ১ হাজার ২টি, হুইলবারো ৬৯টি, মিস্টব্লোয়ার ২৩টি এবং মশার ফাঁদ আছে ৬০টি।
এদিকে ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, এই সিটিতে সকালে টেমিফস দিয়ে লার্ভা এবং বিকেলে ডেলটামেথ্রিন বা ম্যালাথিয়ন দিয়ে উড়ন্ত মশা নিধন করে। বিটিআই ও নোভালিউরন ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনো পরীক্ষাধীন। এই সিটিতে দিনে প্রায় ৩৫ লিটার টেমিফস ও ৪ হাজার ৫৭০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োজন হয়। মজুত আছে ২ হাজার ৮৫০ লিটার লার্ভিসাইড, ১৩ হাজার ৮০০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড ও ৯২০ লিটার ম্যালাথিয়ন। এ ছাড়া আরও ১৫ হাজার ৭৪১ লিটার লার্ভিসাইড ও ২০ লাখ ৭০ হাজার ২১০ লিটার অ্যাডাল্টিসাইড কেনার প্রক্রিয়া চলছে।
শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর হটস্পট (যে এলাকায় বেশি রোগী শনাক্ত) চিহ্নিত করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থলের তথ্যের ভিত্তিতে উৎস ধ্বংস ও প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।কবিরুল বাশার, অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
ডিএসসিসিতে ৭৫ জন সুপারভাইজার, ৯০২ জন কর্মী ও ৭৭ জন ক্রু রয়েছেন। মশা নিয়ন্ত্রণে ৫৭৫টি স্প্রে, ৫২৫টি হাতে চালানো মেশিন ও ৩৯টি হুইলবারো মেশিন রয়েছে।
‘শুধু হটস্পট চিহ্নিত করলেই হবে না’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার প্রথম আলোকে বলেন, শুধু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর হটস্পট (যে এলাকায় বেশি রোগী শনাক্ত) চিহ্নিত করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থলের তথ্যের ভিত্তিতে উৎস ধ্বংস ও প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।
এডিস মশার প্রজননস্থলের তথ্য সংগ্রহ করে উৎস ধ্বংস ও প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন এই কীটতত্ত্ববিদ।