
২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে ৫৭ জনের হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩২ জনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
আজ রোববার সন্ধ্যায় চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের তিনটি স্থানে হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকায় দিনের বেলা ও রাতে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পরদিন নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
আমিনুল ইসলাম বলেন, সে সময় ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে ২০ জন এবং চট্টগ্রামে ৫ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে সন্ধান পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান।
চিফ প্রসিকিউটর প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলার তদন্তকাজ শিগগিরই শেষ হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য আছে। সেদিন পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ট্রাইব্যুনালে চলমান এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক (টুকু), মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক, হাসান মাহমুদ খন্দকার ও বেনজীর আহমেদ, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম প্রমুখ।