
শ্রাবণ বিদায় নিল প্রায়। তবু মেঘ ঘনিয়ে আসছে প্রায় প্রতিদিন আকাশজুড়ে। বর্ষণও হচ্ছে প্রায়ই রাজধানীর কোথাও না কোথাও। এমনতর শ্রাবণসন্ধ্যা গান আর নৃত্যে মনোরম করে তুলেছিলেন শিল্পীরা।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ছায়ানট সংস্কৃতি ভবন মিলনায়তন গান, নৃত্য আর আবৃত্তিতে ‘বর্ষামুখর শ্রাবণসন্ধ্যা’ নামের গীতিনৃত্য–আলেখ্য আয়োজন করেছিল প্রয়াত রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও শিক্ষক সাদি মহম্মদের হাতে গড়া গানের দল ‘ভোরের আলো’। তাদের সঙ্গে সহযোগী ছিল সংগীত সংগঠন গানে গানে আড্ডা (ছোটদের দল), উত্তরায়ণ ও নৃত্যসংগঠন নৃত্যাঞ্চল।
আবহমানকাল থেকে বর্ষা বাংলার প্রকৃতিতে প্রাণসঞ্চারী ঋতু হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। গ্রীষ্মের তপ্ত–শুষ্ক প্রকৃতিতে বর্ষার অবিরল বর্ষণ মাটিকে কেবল আর্দ্র–কোমলই করে না, প্রকৃতিকে যেন নতুন করে জাগিয়ে তোলে। কবিদের চিত্তেও ব্যাকুল করে তোলে বর্ষা। বৃষ্টিধারায় বৃক্ষ–লতা–গুল্ম যেমন নতুন নতুন পত্রপল্লবে সবুজ সজীব হয়ে ওঠে, তেমনি কবিরাও সৃজন প্রেরণায় নতুন নতুন কাব্য, সংগীত, নাটকসহ বিপুল রচনায় বর্ষার বন্দনায় নিবেদিত হয়েছেন। বিশেষ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর কাব্যে-সংগীতে বর্ষাকে যেন নতুন করে আবিষ্কার করেছিলেন। মূলত তাঁর সেই কালজয়ী সৃজনসম্ভার দিয়েই সাজানো হয়েছিল শ্রাবণসন্ধ্যার এই আয়োজন।
অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল সমবেত কণ্ঠে ‘আহ্বান আসিল মহোৎসব/ অম্বরে গম্ভীর ভেরিরবে’ গানটির পরিবেশনা দিয়ে। এরপর ছিল সমবেত সংগীত ও নৃত্য, ‘আজ তালের বনের করতালি’ গানে গানে। ফারজানা অপরাজিতা একক কণ্ঠে পরিবেশন করেন ‘চক্ষে আমার তৃষ্ণা’। এরপর আবার ‘গহন ঘন ছাইল/ হৃদয়ে মন্দ্রিল ডমরু’ গানের সঙ্গে সমবেত নৃত্যে।
কোনো বিরতি ছাড়াই অনুষ্ঠান এগিয়েছে একক ও সমবেত গান, নৃত্য ও আবৃত্তির মধ্য দিয়ে। একক কণ্ঠের পরিবেশনার মধ্যে আরও ছিল, ‘গগনে গগনে আপন মনে’, ‘চিত্ত আমার হারাল’, ‘শাওন গগনে’, ‘আজি শ্রাবণ ঘন গহন মোহে’। একক গানের শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন অনুপম কুমার পাল, জেসমিন রোজ, মৌমিতা পাল, সৌরভ শিকদার প্রমুখ। পাঠ ও আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছিলেন অনন্যা সাহা ও হাফিজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সমবেত কণ্ঠের ‘আষাঢ় কোথা হতে আজ পেলি ছাড়া’ গানের সঙ্গে ছিল নৃত্যপরিবেশনা। এ ছাড়া সমবেত গানের মধ্যে আরও ছিল, ‘এসো এসো ওগো শ্যামছায়া ঘন দিন’, ‘তিমির অবগুন্ঠনে’, ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ ‘আজি বর্ষারাতের শেষ’সহ বেশ কয়েকটি। অনুষ্ঠান শেষ হয়েছিল ‘মরু বিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ’ সমবেত কণ্ঠের গানটি দিয়ে। অনুষ্ঠানের সার্বিক পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন শিল্পী লিলি ইসলাম, নৃত্য পরিচালনা করেছেন নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও স্নাতা শাহরিন।