ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জুবাইদা রহমান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জুবাইদা রহমান

পরিবেশ সুরক্ষায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন: জুবাইদা রহমান

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহসভাপতি জুবাইদা রহমান বলেছেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা এবং দেশের বিভিন্ন সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান বের করার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বর্তমান পৃথিবীকে আরও সুন্দর, সবুজ ও বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ এবং ‘ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর খোঁজে বিজ্ঞান মেলা’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান এসব কথা বলেন।

আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল চত্বরে নিমগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জুবাইদা রহমান। পরে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সেন্ট্রাল গ্যালারিতে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে জুবাইদা রহমান বৃক্ষরোপণকে একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সবুজ বিপ্লবে রূপান্তরের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমে “সবুজ স্বেচ্ছাসেবা” সংযুক্ত করতে হবে। বিজ্ঞানের অভিনব উদ্ভাবনের মাধ্যমেই দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ুসহনশীলতা বৃদ্ধিতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। এই বিজ্ঞান মেলা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ইমেরিটাস অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমান বিশ্বের বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ কেবল পরিবেশগত কাজ নয়; বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।

সভাপতির বক্তব্যে জেডআরএফের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান বলেন, বৃক্ষরোপণকে জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে প্রথম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে যখন জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বৈশ্বিক আলোচনায় সেভাবে আসেনি, তখন থেকেই তিনি বনায়নকে জাতীয় দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শাহাদাতবার্ষিকী পালন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর ও হল প্রাধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।