শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা
শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রুপা

পাঁচ মামলায় সাংবাদিক শাকিল ও ছয় মামলায় ফারজানার জামিন

পৃথক পাঁচ মামলায় একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ এবং ছয় মামলায় সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক ফারজানা রুপা অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছেন।

জামিন চেয়ে এই সাংবাদিক দম্পতির করা পৃথক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ সোমবার রুলসহ এই জামিন দেন। যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যার অভিযোগে করা অপর এক মামলায় শাকিল-ফারজানার জামিন প্রশ্নে রুল দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ছয় মামলায় শাকিল আহমেদ ও সাত মামলায় ফারজানা রুপা অধস্তন আদালতে বিফল হয়ে হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আলাদাভাবে ১৩টি আবেদন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, যাত্রাবাড়ী থানার ৪টি, মিরপুর থানার ১টি ও তেজগাঁও থানার ১টি—এই ৬ মামলায় শাকিল ও ফারজানা দুজনই আসামি। এই ৬ মামলায় তাঁরা ৬টি করে পৃথক ১২টি জামিন আবেদন করেন। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার অন্য এক মামলায় জামিন চেয়ে ফারজানা রুপা পৃথক আবেদন করেন।

পৃথক জামিন আবেদনের ওপর শুনানির পর গত ২৮ এপ্রিল হাইকোর্ট আদেশের জন্য ১১ মে তারিখ রাখেন। আদালতে শাকিল ও ফারজানার পক্ষে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানি করেন, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমদাদুল হানিফ।

পরে আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘শাকিল-ফারজানার জন্য পৃথক ১৩টি জামিন আবেদন করা হয়েছিল। কারণ, ছয়টি মামলায় শাকিল-ফারজানা উভয়েই আসামি হিসেবে রয়েছেন। এই ছয়টিসহ মোহাম্মদপুর থানার একটি অর্থাৎ সাত মামলায় ফারজানা আসামি হিসেবে রয়েছেন। সাত মামলার মধ্যে ফারজানা ছয়টিতে জামিন পেয়েছেন। শাকিল পাঁচটিতে জামিন পেয়েছেন। যাত্রাবাড়ী থানার এক মামলায় আসামি হিসেবে উভয়ের নাম আছে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের জামিন প্রশ্নে রুল হয়েছে। অন্য মামলা থাকায় তাঁরা কারামুক্তি পাচ্ছেন না।’

শাকিল বার্তাপ্রধান হিসেবে ও ফারজানা প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনে কাজ করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ২১ আগস্ট তাঁদের ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর উত্তরায় ফজলুল করিম নামের একজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কয়েক দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়। বতর্মানে তাঁরা কারাগারে।