স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে

বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে বড় বাধা সরকারি সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম: মির্জা ফখরুল

দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এমন কথা জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপে অংশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। সংলাপের আয়োজক ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)। সংলাপে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, তাঁরা (বিনিয়োগকারীরা) বলছেন, এখানে সরকারের যে সংস্থাগুলো আছে, সেগুলো খুব ধীরগতিতে চলে। তাঁরা (বিনিয়োগকারীরা) যে গতিতে কোনো ইস্যুর সমাধান চান, তা পান না। এতে নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হয়। তাঁরা হতাশ হয়ে যান। এটা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটা অন্যতম প্রধান সমস্যা।

এখানে ব্যবসা–বিনিয়োগের পরিবেশ খুব ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কারণে বিনিয়োগকারীরা অনেক ক্ষেত্রে হতাশ হন। সরকার সেই সব বিষয় ঠিক করার চেষ্টা করছে। আমলাতন্ত্রকে ঠিক করা। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে কীভাবে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক কর্মসূচিগুলো মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।

সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস–তেল অনুসন্ধানের কাজও শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ খাতে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে রাজনৈতিক যে সমস্যাগুলো ছিল, তা পুরোপুরি দূর হয়নি। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি এখন ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তার পাশাপাশি বন্ধু ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট এখনো বাংলাদেশের জন্য বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। সরকার এই সমস্যারও সমাধান করতে চায়।