
চট্টগ্রাম বিভাগের (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা) সব পাহাড়ের তালিকা (দাগ ও খতিয়ানসহ) এবং পাহাড়গুলোর বর্তমান অবস্থা জানিয়ে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। পরিবেশসচিব, ভূমিসচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্তসচিব, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিবাদীদের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মাহমুদুল হক ও বিচারপতি মো. মাহমুদ হাসান তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এস হাসানুল বান্না।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রাম বিভাগে (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি) অবস্থিত সব পাহাড় কাটা বন্ধে ২০১১ সালে জনস্বার্থে রিট করে বেলা। এর চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১২ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট কয়েক দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন। হাইকোর্ট জেলাগুলোতে অবস্থিত সব পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় পাহাড় কেটে কোনো আবাসন প্রকল্প বা ইটভাটা স্থাপন করা হয়ে থাকলে তা ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। বন উজাড় বন্ধ করতে ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশ দেওয়া হয়।
বেলা জানায়, আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম শহরের জিইসি মোড় (গরিবুল্লাহশাহ হাউজিংয়ের মুখে), ষোলশহর, শেরশাহ, আরেফিননগর, আকবরশাহ, ফিরোজশাহ এবং উপজেলার মধ্যে সীতাকুণ্ড, বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন, সাতকানিয়ার লোহাগাড়া এলাকার পাহাড় কাটা অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা ট্রাংক রোডের ফৌজদারহাট অংশ থেকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় ১৮টি পাহাড় কেটে প্রায় ৬ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হয়। কক্সবাজার জেলার ঈদগাহ, ইসলামপুর, পিএমখালী, খুরুশকুল, বাদশাগোনা, বৈদ্যঘোনা, পাহাড়তলী, ফাতেরঘোনা, সাহিত্যকা পল্লি ও কলাতলী ও রামু উপজেলার উখিয়ারঘোনা, জোয়ারিয়ানালা এবং উখিয়া উপজেলায় নির্বিচার চলছে পাহাড় কাটা। তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে যেসব স্থানে পাহাড় কাটা চলছে, তার মধ্যে রাঙামাটি উপজেলার কাউখালী, নামিয়ারচর, লংগদু, রাজস্থালি, বাঘাইছড়ি ও কাপ্তাই, বান্দরবানের লামা ও ফাইতং এবং খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, রামগড়, পানছড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙ্গা, সাজেক ও মহালছড়ি উল্লেখযোগ্য। এসব পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে মহাসড়ক, রেললাইন, আবাসন, শিল্পকারখানার সম্প্রসারণ ও সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিভাগে পাহাড় কাটা বন্ধে আদালতের রায় বাস্তবায়ন চেয়ে বেলা ওই আবেদন করে।
আইনজীবী এস হাসানুল বান্না জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের ওই পাঁচ জেলায় বিদ্যমান পাহাড়গুলো ক্ষতি, ধ্বংস ও কাটা থেকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে, পাহাড় ও টিলা কাটার বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তা প্রতিপালন করতে এবং প্রতিটি পাহাড় প্রদর্শন করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে, এমন পাহাড়ে দেশীয় প্রজাতির বৃক্ষরোপণ এবং দেয়াল দিয়ে সুরক্ষিত রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিবাদীদের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।