ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মো. ইউসুফ
ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি মো. ইউসুফ

ব্রুকলিনে গুলিতে নিহত ইউসুফের পাঠানো টাকায় চলত পরিবার, ঘাতকের ছবি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুকলিনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত মো. ইউসুফ (৪৪) বাংলাদেশে তাঁর পরিবারের মূল অর্থ জোগানদাতা ছিলেন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার মধ্যরাতে এই হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টা পর ঘাতক ব্রঙ্কসের একটি মুদিদোকানের এক ক্রেতাকে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, ব্রাউনসভিলের রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিৎজা’ দোকানে কাজ করার সময় ইউসুফকে (৪৪) গুলি করে হত্যা করে বন্দুকধারী। হামলায় তাঁর ৩৯ বছর বয়সী এক সহকর্মীও আহত হন। ডান পায়ে গুলি লাগলেও তিনি বেঁচে গেছেন। রেস্তোরাঁর সহ-স্বত্বাধিকারী রাসেল বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ইউসুফ শুধু আমাদের কর্মী ছিলেন না। তিনি আমাদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুও ছিলেন।’

রাসেল আরও বলেন, ইউসুফ সচ্ছল পরিবারের সন্তান ছিলেন না। সত্যি বলতে, তিনি অত্যন্ত দরিদ্র একটি পরিবার থেকে এসেছিলেন। তিনি পুরো পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া ওই পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। ইউসুফ তাঁর উপার্জিত টাকা দেশে পাঠাতেন। সেই টাকায় তাঁর স্ত্রী, ৩ ও ১২ বছর বয়সী দুই মেয়ে এবং বৃদ্ধ বাবা-মা জীবন নির্বাহ করতেন।

ঘটনার সময় রাসেল রেস্তোরাঁয় ছিলেন না। তবে পরে তিনি ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) ফুটেজ দেখে ঘটনাটি জানতে পারেন। হামলার সময় রেস্তোরাঁটি বন্ধ ছিল এবং ভেতরে কোনো ক্রেতা ছিলেন না। রাসেলের ধারণা, ভুলে কর্মীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একটি দরজা খোলা থাকায় খুনি রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢুকতে পেরেছিল।

বাংলাদেশি যুবক ইউসুফকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ঘাতকের এই ছবি প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ

রাসেল জানান, বন্দুকধারী কোনো কথা না বলেই প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গুলি চালায়। সে প্রথমে তাঁর বেঁচে যাওয়া সহকর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি করে। রাসেল বলেন, ‘বন্দুকধারীকে পিস্তল বের করতে দেখে আমার ওই সহকর্মী লাফ দিয়েছিলেন। লাফ দেওয়ার কারণেই গুলিটি এসে তাঁর পায়ে লাগে। তিনি যদি লাফ না দিতেন, তবে গুলিটি হয়তো তাঁর বুকে লাগত। তিনিও হয়তো মারা যেতেন।’

ঘটনার সময় ইউসুফ ক্যাশ কাউন্টারের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর সেখান থেকে পালানোর কোনো পথ ছিল না। রাসেল বলেন, ‘ও সেখানে আটকে পড়েছিল। বন্দুকধারী সরাসরি ওর মাথায় গুলি করে।’

পুলিশের ধারণা, খুনি ডাকাতির উদ্দেশ্যে রেস্তোরাঁটিতে ঢুকেছিল। তবে রাসেল জানান, ক্যাশ থেকে কোনো টাকা খোয়া যায়নি। ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা আহত ওই সহকর্মীকে দেখতে গিয়েছিলেন রাসেল। তিনি জানান, গুলি লাগার পর ওই কর্মী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন।

পুলিশ মঙ্গলবার ৩১ বছর বয়সী সন্দেহভাজন জেসাস অ্যাকোস্তার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে। তাঁকে খুঁজে পেতে জনসাধারণের সাহায্য চেয়েছে পুলিশ। রাসেল বলেন, ‘আমাদের আশপাশে কোনো সাবওয়ে (পাতাল রেলস্টেশন) নেই। ফলে এখানে সচরাচর অচেনা কোনো নতুন ক্রেতা আসে না। যে ব্যক্তি গুলি করেছে, তাকে আমরা আগে কখনো দেখিনি।’

পুলিশ জানিয়েছে, ইউসুফকে হত্যার দুই দিন পর গত মঙ্গলবার প্রথম প্রহর সোয়া ১২টার দিকে মট হ্যাভেনের ওয়ালটন অ্যাভিনিউয়ের কাছে একটি দোকানে ৩৩ বছর বয়সী এক ক্রেতার বুকে গুলি করে অ্যাকোস্তা। এরপর সে ক্যাশ রেজিস্টার থেকে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ ওই ক্রেতা পরে লিঙ্কন হাসপাতালে মারা যান।