
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তিনির্ভর। বিশ্বব্যাপী অভিজ্ঞতা বলে, স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়।’
বুধবার রাজধানীর পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘ঢাকায় নগর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা: চ্যালেঞ্জ, উদ্ভাবন ও অগ্রগতির দিকনির্দেশনা’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এ কথা বলেন। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইজিপি বলেন, ‘বাংলাদেশ দ্রুত নগরায়ণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, নগর অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং মানুষের চলাচল—সবকিছু মিলিয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সবাইকে সমন্বিতভাবে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, নাগরিকদের কাছে পুলিশের প্রথম পরিচয় প্রায়ই আসে ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে। একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট যখন রাস্তায় দাঁড়ান, তিনি শুধু যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করেন না, তিনি রাষ্ট্রের আইন ও শৃঙ্খলার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর আচরণ, পেশাদারত্ব ও নৈতিকতা সরাসরি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে।
পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কলেজের ভাইস রেক্টর এস এম আক্তারুজ্জামান। কর্মশালায় ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের পক্ষে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার সুফিয়ান আহমেদ। প্রবন্ধে ঢাকা মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বর্তমান অবস্থা, যানজটের কারণ, আইন প্রয়োগের বাস্তবতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর ও নীতিনির্ধারণভিত্তিক উদ্ভাবনী সমাধানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় ঢাকার যানজটের কারণ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, বাস রুট ব্যবস্থাপনা, অবৈধ পার্কিং, ফুটপাত ব্যবস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং পথচারীর নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (অ্যাডমিন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি (লজিস্টিকস) মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এবং অতিরিক্ত আইজিপি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন বক্তব্য দেন।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, গণপরিবহন সংস্কার, আইন প্রয়োগে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কর্মশালার সুপারিশগুলো ভবিষ্যতে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। ভারপ্রাপ্ত ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ারের সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালা শেষ হয়।