সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

৫ আগস্টের পর করা সব মামলা যাচাই–বাছাই করা হবে: চিফ প্রসিকিউটর

গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে এ–সংক্রান্ত যত মামলা হয়েছে, তার সব কটি যাচাই–বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সারা বাংলাদেশে যে মামলাগুলো হচ্ছে, যেগুলো আসলে ইন ফ্যাক্ট আমাদের এই ট্রাইবু৵নালের আওতাধীন অপরাধ; সেখানে একেকটা মামলায় হয়তো ৪০০ থেকে ৫০০ আসামি হচ্ছে। সব আসামি দোষী—এটা আমরা কিন্তু মনে করি না। আমরা মনে করি যে এর মধ্যে দোষী ব্যক্তি যেমন আছে, অনেক নিরপরাধ মানুষও আছে।…অনেক সময় যারা প্রকৃত দোষী, তাদের ছেড়ে দিচ্ছে। আবার অনেক নিরাপরাধ মানুষ জেল খাটতেছে।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর সারা দেশে যত মামলা হয়েছে, সবগুলোর তথ্য চেয়েছেন। তাঁর কাছে ইতিমধ্যে পাঁচ–সাত শ মামলার কপি গতকাল (সোমবার) জমা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, এক–দুই দিনের মধ্যে সারা দেশের এসব মামলার কপি তাঁর কাছে আসবে। এগুলো একটি টিম যাচাই–বাছাই করবে। সব মামলা তাঁরা যাচাই–বাছাই করে দেখবেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁরা নজর রাখবেন যে সারা দেশের যেসব থানায় মামলাগুলো হচ্ছে, সেখানে যাতে কোনো দোষী ব্যক্তি ছাড়া না পেয়ে যায়। কোনো নির্দোষ মানুষও যেন অহেতুক জেলে না যায়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো বিশেষ মহল মামলা বাণিজ্যের নামে যে ব্যবসা, এটা না করতে পারে। যদি কেউ হয়রানি করার জন্য মিথ্যা মামলা করে, তাহলে প্রচলিত আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁরা সুপারিশ করবেন বলেও জানান তিনি।

‘সব ক্রসফায়ারের মামলার তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে’

একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, শত শত ক্রসফায়ারের ঘটনা আছে। প্রতিটা ক্রসফায়ারের কাহিনি মোটামুটি একই রকম। তাহলে যত ক্রসফায়ার আগে হয়েছে, সব কটির বিচার ট্রাইবু৵নালে হওয়া সম্ভব?

জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একটি ‘কমন ডিজাইনে’ সারা বাংলাদেশে এই ক্রসফায়ারের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড করেছে তৎকালীন সরকার। সেই সরকারের মতের সঙ্গে অমিল হলে বা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতের অমিল হলে তাঁরা পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। পুলিশ আবার তাঁদের সহযোগী হয়েছে। পুলিশ ভুক্তভোগীদের ক্রসফায়ার দিয়ে হত্যা করে মিথ্যা গল্প জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতিটা ক্রসফায়ারের একই রকম গল্প। এটা অবশ্যই সিস্টেমেটিক ক্রাইম (পরিকল্পিত অপরাধ) এবং একটি ওয়াইড স্প্রেড অ্যাটাক (ব্যাপক মাত্রায় আক্রমণ)। এটা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত অপরাধ।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থাকে নির্দেশ দিয়ে সারা দেশে যতগুলো ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে, সব কটি মামলার কপি তাঁরা সংগ্রহ করছেন। যে মামলাগুলো হয়েছে, সেগুলো তাঁরা যাচাই–বাছাই করবেন। এ বিষয়ে একটি কমিটিও তাঁরা গঠন করে দেবেন। যাচাই–বাছাই করে ক্রসফায়ারের অপরাধগুলোর মধ্যে যেগুলো ট্রাইবু৵নালের বিচারের আওতাভুক্ত হবে, সেসব মামলার বিচারের ব্যবস্থা ট্রাইবু৵নালে করবেন।