
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য থেকে ভারতের অন্য অংশে বিদ্যুৎ নিতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে চায় নয়াদিল্লি। আর নেপাল-ভুটান থেকে ভারতের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ আনতে চায় বাংলাদেশ। প্রায় সাত বছর ধরে এ আলোচনা চলছে। এবার দুই দেশ মিলে আন্তসংযোগ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ-ভারতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত দুই দেশের বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতাসংক্রান্ত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়। কমিটির ২১তম এ সভা অনুষ্ঠিত হয় খুলনায়।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই দেশের সঞ্চালন কোম্পানির অংশীদারত্বে একটি যৌথ বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি গঠিত হবে। তারা ভারতের কাটিহার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে আবার দেশটির বরানগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভির (কিলোভোল্ট) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে।
এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ বিভাগের নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। বৈঠক শেষে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, আন্তসংযোগ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন হলে নেপাল-ভুটান থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ আনতে পারবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ–সচিব মো. হাবিবুর রহমান এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির বিদ্যুৎ–সচিব অলক কুমার। সভায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতাসংক্রান্ত চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ বিদ্যুৎ মূলত নদীতে বাঁধ দিয়ে উৎপাদন করা হবে, যাতে ভাটির দেশ বাংলাদেশে পানির প্রবাহ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুই দেশের সঞ্চালন কোম্পানির অংশীদারত্বে একটি যৌথ বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি গঠিত হবে। তারা ভারতের কাটিহার থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর হয়ে আবার দেশটির বরানগর পর্যন্ত ৭৬৫ কেভির (কিলোভোল্ট) বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করবে। এর আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ে দুই দেশের যৌথ একটি কোম্পানি গঠন করা হয়। ওই কমিটি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
চাহিদা না থাকায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছে না দেশটি। বিদ্যুৎ করিডর পেলে ভারতের এ অংশের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ অপর অংশে নেওয়া সহজ হবে। তাই দেশটি দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিদ্যুৎ মূলত নদীতে বাঁধ দিয়ে উৎপাদন করা হবে, যাতে ভাটির দেশ বাংলাদেশে পানির প্রবাহ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি সভায় ওঠেনি। তবে নেপালে ভারতের কোম্পানি জিএমআর কর্তৃক উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
এদিকে নেপাল থেকে বাংলাদেশ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে একমত হয়। ভারতের ওপর দিয়ে এ বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে। এ জন্য ঢাকা-দিল্লি-কাঠমান্ডু ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে হবে। বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার কথা ছিল।
সূত্র জানিয়েছে, ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি সভায় ওঠেনি। তবে নেপালে ভারতের কোম্পানি জিএমআর কর্তৃক উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সই হতে পারে।
সভায় ভুটানে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ, ভারত ও ভুটানের ত্রিপক্ষীয় বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশে সেই বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশ–ভারত মৈত্রী পাওয়ার কোম্পানি-বিআইএফপিসিএলের মাধ্যমে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়।
যৌথ কমিটির সদস্যরা বাগেরহাটে নির্মিত বিআইএফপিসিএলের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ প্রকল্পের ঠিকাদার ভারতীয় কোম্পানি ভেল।
সূত্র জানায়, সভার আগে যৌথ কমিটির সদস্যরা বাগেরহাটে নির্মিত বিআইএফপিসিএলের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ প্রকল্পের ঠিকাদার ভারতীয় কোম্পানি ভেল। নির্মাণকাজের বিভিন্ন ত্রুটির বিষয়ে যৌথ কমিটির পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত সেগুলো কাটিয়ে ওঠার তাগিদ দেওয়া হয়।
এর আগে বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ২১তম সভা বুধবার একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়। জয়েন্ট স্টিয়ারিং কমিটি ও জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ২০তম সভা গত বছর মে মাসে ভারতের ধর্মশালায় অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির পরবর্তী সভা আগামী নভেম্বর ২০২৩-এ ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।