হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

আগের বিয়ে ও সন্তানের তথ্য কাবিননামায় যুক্ত করতে নির্দেশনা চেয়ে রিট

বিয়ের ক্ষেত্রে তথ্য গোপন ও প্রতারণা রোধে কাবিননামায় বর-কনের আগের বিয়ে, বিদ্যমান বিয়ে, সন্তান এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করতে নির্দেশনা চেয়ে রিট হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান আবেদনকারী হয়ে আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।

রিটে কাবিননামা সংশোধন করে বর-কনে উভয়ের আগের ও বিদ্যমান সব বিয়ের তথ্য, আগের বা বিদ্যমান সন্তানের তথ্য, চলমান ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব ও অন্যান্য আইনগত দায় এবং জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট নম্বর অন্তর্ভুক্ত এবং যাচাইযোগ্য করার জন্য নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনের ভাষ্য, বর্তমানে বাংলাদেশ ফরম নম্বর ১৬০১ বা ‘ফরম ঘ’—কাবিননামায় বর-কনের আগের ও বিদ্যমান বিয়ে, সাবেক স্বামী-স্ত্রী, বিয়ে-তালাক নিবন্ধনের তথ্য, সন্তান ও আগের সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত ভরণপোষণ, অভিভাবকত্বসহ চলমান আইনগত দায়দায়িত্ব সমভাবে প্রকাশ ও যাচাইয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেই। বর্তমান কাবিননামায় বরের বিদ্যমান স্ত্রী এবং সালিসি পরিষদের অনুমতির বিষয়ে কিছু তথ্য চাওয়া হলেও আগের বিয়ে, তালাক, সাবেক স্ত্রী ও সন্তানদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে কনের ক্ষেত্রেও পূর্ববর্তী বৈবাহিক ইতিহাস যাচাইয়ে সমতাভিত্তিক ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে পরবর্তী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রতারণা ও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির স্বাধীন ও পূর্ণাঙ্গ তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রিটের প্রার্থনায় দেখা যায়, ওই সব তথ্য উল্লেখ করতে কাবিননামার ওই ফরম সংশোধন ও হালনাগাদে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না এবং ফরমটি সংশোধন ও হালনাগাদের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে।

রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব ও নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে বিবাদী করা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ইশরাত হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টে আগামী সপ্তাহে রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।