ফরিদপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ল

ফরিদপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদনের সাড়ে চার মাস পর কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত দুটি চিঠি থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর আগে ১৫ এপ্রিল ১৯ সদস্যবিশিষ্ট ফরিদপুর জেলা বিএনপি এবং ১৭ সদস্যবিশিষ্ট মহানগর কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। বুধবার সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে দুটি কমিটিই ৩১ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। ১৯ সদস্যবিশিষ্ট জেলা কমিটির আহ্বায়ক করা হয় সৈয়দ মোদাররেছ আলীকে এবং সদস্যসচিব করা হয় এ কে কিবরিয়াকে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় নয়জনকে এবং সদস্য করা হয় আটজনকে। এখন ১২ জন সদস্য বাড়িয়ে কমিটি করা হলো ৩১ সদস্যবিশিষ্ট। নতুন করে যাঁদের যুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে সদস্যপদে রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. আবদুল লতিফ মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর আলম, আমিনুল ইসলাম, নূরুজ্জামান চৌধুরী, সেলিম মিয়া, মো. সেলিম মিয়া, মো. শামীম হোসেন, মো. মারুফ হোসেন, ইকবাল খান, মামুনুর রশিদ, নাজরীন রহমান ও হান্নান মিয়া।

এদিকে ১৫ এপ্রিল ১৭ সদস্যবিশিষ্ট ফরিদপুর মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় এ এফ এম কাইয়ুমকে এবং সদস্যসচিব করা হয় গোলাম মোস্তফাকে। যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় ১১ জনকে এবং সদস্য করা হয় চারজনকে। এই কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে নতুন যে ১৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের সবাইকে সদস্যপদ দেওয়া হয়েছে। নতুন সদস্যরা হলেন মো. রেজাউল ইসলাম, সাজ্জাদ শাওন, মিজানুর রহমান, মজিবর রহমান, ফরহাদ হোসেন, শিশির কুমার রায়, জোনায়েদ আজগর, আতিকুল ইসলাম, সোহরাব মিয়া, লিপু শেখ, ইসমাইল হোসেন লাবলু, জাহিদ হোসেন, এ কে আজাদ ও নিতাই রায়।

সম্প্রসারিত এ কমিটি নিয়ে ফরিদপুরের বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সম্প্রসারিত কমিটিতে যোগ্যতার মূল্যায়ন করা হয়নি। যাঁদের যুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের নিয়ে কোনো আলোচনাই চলে না। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, বিএনপির রাজনীতি করতে হলে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই শেষ কথা।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘কমিটিতে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর নামে যাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের নাম দেখে প্রতিক্রিয়া জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। যাঁরা আন্দোলন–সংগ্রামে থাকেন এবং যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি, তাঁদের মূল্যায়ন করে চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করা হবে—এ দাবি আমাদের ছিল। কিন্তু তা না করে, তাঁদের বদলে যাঁদের দিয়ে কমিটি সম্প্রসারিত করা হয়েছে, তাঁদের নিয়ে জেলা বিএনপির কমিটি হওয়া তো দূরের কথা, তাঁদের নিয়ে কোনো আলোচনাই চলে না।’

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তাই এ ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য নেই। বিএনপির রাজনীতি করতে হলে আমাদের কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। কেননা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’

জেলা বিএনপির সর্বশেষ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর। ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তাতে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়েছিল, ‘আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ফরিদপুর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

অতিসত্বর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।’ কমিটি ভেঙে দেওয়ার দুই বছর পর চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল জেলা ও মহানগর বিএনপির যথাক্রমে ১৯ ও ১৭ সদস্যবিশিষ্ট দুটি আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কমিটি দুটি সম্প্রসারিত করে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট করা হলো।