
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রোববার এই আদেশ দেন। এই ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আজ দুপুরে হাসিবুর রশীদকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
হাসিবুর রশীদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি হাসিবুর রশীদ।
এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তিনি আজ থেকে তাঁর সাজা ভোগ করবেন।
আজ হাসিবুর রশীদের পক্ষ থেকে আইনজীবী ওকালতনামা দাখিলের জন্য অনুমতি নিয়েছেন বলে জানান প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, মামলার রায় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু রায়ের ‘সার্টিফাইড কপি’ এখনো বের হয়নি। এ জন্য রায়ের এই কপি পাওয়া সাপেক্ষে হাসিবুর রশীদ আপিল করতে পারবেন। রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তিনি আপিল করতে পারবেন। প্রসিকিউশন প্রত্যাশা করছে, হাসিবুর রশীদের সাজা উচ্চ আদালতে বহাল থাকবে।
গত ৯ এপ্রিল এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ৩০ আসামিকেই সাজা দেওয়া হয়। পুলিশের সাবেক ২ সদস্যকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড ও অন্য ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়, তাঁরাও পুলিশের সাবেক সদস্য। আসামিদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
হাসিবুর রশীদ এত দিন পলাতক ছিলেন। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।