বই ও কার্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী, চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বই ও কার্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী, চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা

বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২

হারিয়ে যাওয়া রঙের নাম ফিরিয়ে আনতে বার্জারের অনন্য উদ্যোগ

ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসে নানা আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণ করা হয় ভাষাশহীদদের। ভাষার মাসে দেশের অন্যতম বড় আয়োজন ‘অমর একুশে বইমেলা’। এ বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বইমেলাকে ঘিরে ছিল নানা কৌতূহল—কত দিনের মেলা হবে, কতগুলো স্টল, প্রিয় লেখকের কী বই আসছে ইত্যাদি। মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থী ও পাঠকদের আরও একটি কৌতূহল ছিল—বইমেলা প্রাঙ্গণে রঙের প্রতিষ্ঠান কেন? তাদের কাজ কী?

বইমেলায় বার্জার

প্রথমবারের মতো অমর একুশে বইমেলায় অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ‘বই আকৃতি’র স্টল নজর কেড়েছে দর্শনার্থীদের। বিশেষ করে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। স্টলের নির্দিষ্ট কোনায় তাদের জন্য রাখা হয়েছিল ‘আর্ট জোন’। বার্জারের ‘আর্টিসটা’ রং দিয়ে বিভিন্ন ছবিতে রঙের খেয়াল মেতেছিল শিশুরা। এ সময় তাদের অভিভাবকদের সন্তানের সৃজনশীলতা মুঠোফোনে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়।

প্রথমবারের মতো অমর একুশে বইমেলায় অংশ নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড

স্টলের আরেক প্রান্তে দর্শনার্থীরা অংশ নিয়েছে ভাষা দিবসে আয়োজিত বার্জারের ‘বাংলার রঙে বাংলা নামে’ বিশেষ উদ্যোগে। বাকি দেয়ালে ভিডিও ও লেখার মাধ্যমে বার্তা দিচ্ছিল বার্জারের রঙের বিভিন্ন বিশেষত্ব। স্টলের কাছাকাছি ফটোবুথ ছিল শিশুদের উপস্থিতিতে মুখর।

রোববার (১৫ মার্চ) বার্জারের স্টল ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে জমজমাট। এদি বেলা ৩টায় ‘ইনি মিনি রং চিনি’ বই ও ‘বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২’ শীর্ষক কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। বই ও কার্যক্রমের মোড়ক উন্মোচন করেন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী, চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী, চিফ মার্কেটিং অফিসার সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২

বার্জারের এই ক্যাম্পেইন কেবল রঙের নাম খুঁজে পাওয়া নয়, বরং এটি বাঙালির ভাষাগত পরিচয়ের প্রতি এক পরম শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার।

উদ্যোগটির উদ্বোধন শেষে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী চৌধুরী বলেন, ‘বাংলা ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আবেগের গভীরতম প্রকাশ। ১৯৫২ সালে রাজপথে রক্ত দিয়ে অর্জিত এই ভাষার সমৃদ্ধি ধরে রাখতে কাজ করে যাচ্ছে বার্জার। আমরা লক্ষ করেছি, সময়ের আবর্তে ও বিশ্বায়নের প্রভাবে শব্দভান্ডার থেকে ‘ময়ূরকণ্ঠী’, ‘কাঞ্চন’, ‘লীলাবতী’ বা ‘নীলুয়া’র মতো ঐতিহ্যবাহী রঙের নামগুলো আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এই শূন্যতা পূরণ করতেই আমরা বিশেষ এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছি।

স্টলের আরেক প্রান্তে দর্শনার্থীরা অংশ নিয়েছে ভাষা দিবসে আয়োজিত বার্জারের ‘বাংলার রঙে বাংলা নামে’ বিশেষ উদ্যোগে

রুপালী চৌধুরী আরও বলেন, ‘বইমেলাকে পুরো বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে চায় বার্জার। বাংলা ভাষার মর্যাদাকে তরুণ ও আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত এই ক্যাম্পেইন নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।’

জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিলুপ্তির পথে রয়েছে অসংখ্য শব্দ ও অভিব্যক্তি। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ২০০টির বেশি বহুল ব্যবহৃত রঙের শেডের মধ্যে ৬০ শতাংশেরই কোনো সরাসরি বাংলা সমার্থক নেই। এই সীমাবদ্ধতা দূর করে বাংলা রঙের শব্দভান্ডারকে সমৃদ্ধ করাই এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।

বার্জারের ‘আর্টিসটা’ রং দিয়ে বিভিন্ন ছবিতে রঙের খেয়ালে মেতেছিল শিশুরা

বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের চিফ অপারেটিং অফিসার ও ডিরেক্টর মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম সিজনে বাংলাদেশের ৮টি বিভাগ থেকে প্রায় ৬ হাজার ৫০০ জন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের জমা দেওয়া ২০ হাজারের বেশি নাম থেকে নির্বাচিত ৪৮টি শেডের বাংলা নাম নিয়ে তৈরি হয়েছে বার্জারের প্রথম বাংলা ই-শেড কার্ড। সেই সাফল্যের পর এ বছর লক্ষ্য ১ হাজার ৪৩২টি শেডের অর্থবহ বাংলা নাম নির্ধারণ করা।’

মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যেন তাঁরা প্রকৃতি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন রঙের নাম প্রস্তাব করেন। পাঠানো নামগুলো থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক নাম বাছাই করবেন জুরিবোর্ডের অভিজ্ঞ সদস্যরা। যাঁরা ইতিমধ্যে অংশ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নেবেন, তাঁদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

‘বাংলার রঙে বাংলা নামে ১৪৩২’ শীর্ষক কার্যক্রমটি চলবে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। আগ্রহী ব্যক্তিরা রঙের বাংলা নামগুলো জমা দিতে পারবেন অনলাইনে। বিচারকদের যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত বিজয়ীরা পাবেন আকর্ষণীয় পুরস্কার।

প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলা রঙের নামকে পরিচিত ও জীবন্ত রাখতে বইটি ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা

শিশুদের জন্য নতুন বই ‘ইনি মিনি রং চিনি’

বাংলা রঙের পরিচিতি ছড়িয়ে দিতে বার্জার প্রকাশ করেছে ভিন্নধর্মী ছড়ার বই ‘ইনি মিনি রং চিনি’। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাংলা রঙের নামকে পরিচিত ও জীবন্ত রাখতে বইটি ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক বাংলা রঙের নাম শিশুদের কাছে অপরিচিত হয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের কাছে বাংলা রঙের জগৎকে নতুনভাবে তুলে ধরার প্রয়াস এই বই, যেখানে দেশের স্বনামধন্য ছড়াকাররা ছন্দ ও ছড়ার মাধ্যমে বাংলা রঙের জগৎকে পরিচিত করিয়েছেন। লেখনীর মধ্যে গুরুত্ব পেয়েছে প্রথম সিজনের নির্বাচিত ৪৮টি শেডের বাংলা নামও।