আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা, ১৭ অক্টোবর
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তব্য দেন। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র, ঢাকা, ১৭ অক্টোবর

অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে প্যারালিগ্যাল সেবা প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে: আইনমন্ত্রী

দেশের প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছে সহজে আইনি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এ সেবার নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত আগামী দিনের কার্যক্রমে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে। এ জন্য সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আজ শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জনবান্ধব বিচারব্যবস্থা বিনির্মাণে প্যারালিগ্যাল অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আদালত ও কারাগারের ওপর চাপ কমাতে প্যারালিগ্যালরা (আইনি কাজে সহায়তাকারী তবে আইনজীবী নন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাঁদের এ ভূমিকা ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া গেলে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা আরও সহজলভ্য হবে।

এ উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য জার্মান সরকার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইনি সেবা সহজ করা এবং প্যারালিগ্যাল সেবাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এ যাত্রায় তাদের অব্যাহত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মেলনে প্যারালিগ্যাল সেবার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে প্যারালিগ্যালদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, সরকার ও এনজিওর যৌথ অংশীদারত্ব, দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, সেবার মানদণ্ড নির্ধারণ এবং টেকসই অর্থায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

সম্মেলনে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সহযোগিতা বিভাগের প্রধান মাইকেল ক্রেজজা ও বাংলাদেশে জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লোটজসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। এতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিচার বিভাগের প্রতিনিধি, আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া মালাউই, ফিলিপাইন ও কিরগিজস্তানের বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ দেশের বিচারব্যবস্থায় প্যারালিগ্যাল সেবা অন্তর্ভুক্ত করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।