খেলতে বের হয়ে আর ঘরে ফেরা হলো না দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীর (৯)। নিখোঁজের এক দিন পর বাড়ির অদূরে একটি পাটখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটির চোখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
আজ শনিবার বেলা দেড়টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামে সেচ ক্যানেলের ধারের একটি পাটখেত থেকে সানজিদার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।
পুলিশ, জনপ্রতিনিধি ও নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি গতকাল শুক্রবার দুপুরে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয়। এর পর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিকেল থেকেই আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় এলাকায় মাইকিং করা হয়। শিশুটি একটি কিন্ডারগার্টেনে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে মাঠে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় কয়েকজন কৃষক বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি পাটখেতে শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল ও নিহত শিশুর বাড়িতে ভিড় করে শত শত মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন ইসলাম বলেন, গতকালও বাচ্চাটা খেলাধুলা করেছে। আজ পাটখেতে তার লাশ পাওয়া গেল। এমন নিষ্ঠুর ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বলেন, ‘শিশুটিকে না পেয়ে তার পরিবার গতকাল থেকেই খোঁজাখুঁজি ও মাইকিং করছিল। আজ তার মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ। শিশুটি আমার মেয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে তার চোখ দুটি দাবানো ছিল। ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।