সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ১২ সেপ্টেম্বর
সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ১২ সেপ্টেম্বর

অনুমোদনের পরই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ‘মৃত’ হয়ে যেত: অর্থ উপদেষ্টা

গত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের সময়ে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যে ছেয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, ওই সরকারের সময় স্বজনপ্রীতির কারণে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাও দলীয় মনোভাবাপন্ন কয়েকজনকে দিয়ে প্রণয়ন করা হতো। ফলে অনুমোদনের পরদিনই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ‘মৃত’ হয়ে যেত।

আজ শনিবার সাভারের বিরুলিয়ায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। গত সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, তা নিয়ে গবেষণা হওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নীতি সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে। এতে দেশের খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের ৩৬ জন প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গত সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা তুলে ধরে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছিল। সেখানে কোনো জবাবদিহি ছিল না। এ জন্য সরকারের লোকজন পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বজনপ্রীতি ও বৈষম্যের প্রভাব অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান পড়েছে দাবি করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, একদিকে বেকারত্ব বেড়েছে অন্যদিকে বৈষম্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। তাই বৈষম্য কমানো, সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা এবং সবার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

বিনা পয়সায় সুশাসন নয়

অনুষ্ঠানে জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ বলেন, সুশাসনের ধারণা নতুন নয়। তবে বিনা পয়সায় সুশাসন নিশ্চিত হবে না। ভালো শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রশাসন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ সব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সুশাসন নিশ্চিত হলে উন্নয়নের সুফলও দৃশ্যমান হবে।

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা, রাজস্ব, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসাসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই শাসনব্যবস্থার সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই দুর্নীতি বন্ধ হবে না। এর জন্য আস্থা, ন্যায়নীতি ও জবাবদিহি প্রয়োজন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা ও অলিগার্কি থাকলে ভালো শাসন নিশ্চিত করা কঠিন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের পরিচালক আবদুল বাকি। বাংলাদেশে চলমান পরিবর্তনকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু সুশাসনের কথা বললেই হবে না, বাস্তবে কী ঘটছে জনগণ তা দেখতে চায়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এম আর কবির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব শুধু শিক্ষা দেওয়া নয়; জ্ঞান সৃষ্টি, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব তৈরিও। পাশাপাশি জাতীয় ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অবদান রাখা। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ প্রতিষ্ঠা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ, গবেষণা, উদ্ভাবন ও সামাজিক প্রভাব তৈরির যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সিজিএস আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ‘কানেকটিং নলেজ, পলিসি অ্যান্ড প্র্যাকটিস ফর বেটার গভর্ন্যান্স’ শীর্ষক জাতীয় গোলটেবিল বৈঠকে শিক্ষক, গবেষক, নীতিনির্ধারক, উন্নয়নকর্মী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পর্যায়ের পেশাজীবীরা অংশ নেন।