
‘শরীরে ডায়াবেটিসসহ নানা অসুখ কড়া নাড়ছিল। সুস্থ থাকার জন্য বড় ছেলের সঙ্গে জিমে যাওয়া শুরু করলাম। জিমে ছেলের বন্ধুদের বলতাম, তোমাদের মতো আমিও একটু করি। ওজন ভালোই তুলতে পারতাম। সে–ই শুরু।’
সেই শুরু যে তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে, তখন হয়তো নিজেও ভাবেননি শাম্মী নাসরিন। ছেলে জিম ছেড়ে দিয়েছেন, কিন্তু তিনি ছাড়েননি। ছাড়েননি বলেই সংসার সামলানো এক গৃহবধূ থেকে আজ তিনি দেশের সবচেয়ে বেশি বয়সী আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী পাওয়ারলিফটার।
৫৪ বছর বয়সে নিয়মিত জিম করছেন, প্রতিযোগিতায় ১২০ কেজি বা তার বেশি ওজন তোলেন, দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্বর্ণপদক জিতেছেন। এখন শাম্মীর চোখ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে।
রাজধানীর মিরপুরের বাসায় ১০ আগস্ট শাম্মী বলছিলেন নিজের জীবনের গল্প। কথার ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসছিল সংসার, শরীরচর্চা, লড়াই আর নতুন করে বাঁচার গল্প।
২০২০ সালের ‘বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে’ শাম্মীকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে অন্য নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন। তখন অবশ্য বয়সভিত্তিক আলাদা বিভাগ না থাকায় তাঁকে ওপেন বা সব বয়সী মেয়েদের ক্যাটাগরিতেই অংশ নিতে হতো।
ছেলের হাত ধরে জিমে, তারপর নিজের পথে
বাংলাদেশে পাওয়ারলিফটিং খেলাটি ২০১৮ সালে শুরু করেন বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব মোমিনুল হক। এর এক বছর পর ২০১৯ সালে পাওয়ারলিফটিং শুরু করেন শাম্মী। তার আগে খেলাধুলার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্কই ছিল না। বড় ছেলে তানভীর ফয়সলের সঙ্গে জিমে যাওয়া থেকেই শুরু। ছেলে পরে জিম ছেড়ে দেন, কিন্তু শাম্মী আর ফেরেননি।
২০২০ সালের ‘বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে’ তাঁকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে অন্য নারীদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেছিল বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন। তখন অবশ্য বয়সভিত্তিক আলাদা বিভাগ না থাকায় তাঁকে ওপেন বা সব বয়সী মেয়েদের ক্যাটাগরিতেই অংশ নিতে হতো।
এরপর একে একে সাফল্য এসেছে। তিনবার জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এশিয়ান পর্যায়ে জিতেছেন তিনটি স্বর্ণ ও দুটি ব্রোঞ্জপদক। জাতীয় পর্যায়ে গড়েছেন নয়টি রেকর্ড।
২০২৩ সালে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় পদক জেতেন শাম্মী। এশিয়ান পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৩–এ ‘উইমেন মাস্টার–১ অনূর্ধ্ব-৬৩’ ক্যাটাগরির স্কোয়াটে ব্রোঞ্জপদক জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি।
এরপর ২০২৫ সালে ইস্তাম্বুলে এশিয়ান ওপেন অ্যান্ড মাস্টার্স ক্ল্যাসিক পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৩ কেজি মাস্টার-২ বিভাগে প্রথম হন শাম্মী নাসরিন। স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস ও ডেডলিফট—এই তিন লিফটে ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সী এশিয়ার পাওয়ারলিফটার নারীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মোট ৩২২ দশমিক ৫ কেজি ওজন তুলে জেতেন তিনটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জপদক।
জিম শুরু করার পর ডায়াবেটিস আর তাঁকে তেমন ভোগাতে পারেনি। শরীরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অসুখও নেই। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন, পাওয়ারলিফটিং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হওয়া।শাম্মী নাসরিন
১০টি ডিম, নিয়মের জীবন
শাম্মীর ওজন ৬৩ কেজির আশপাশে। শরীর ঠিক রাখতে খাবারের ব্যাপারেও তাঁকে খুব সচেতন থাকতে হয়। সেদ্ধ শাকসবজি, মুরগির বুকের মাংস, লাল চালের অল্প ভাত—এসব থাকে তাঁর খাবারের তালিকায়। কোনো কোনো দিনে ১০টি ডিমও খেতে হয় তাঁকে।
শাম্মী বলেন, জিম শুরু করার পর ডায়াবেটিস আর তাঁকে তেমন ভোগাতে পারেনি। শরীরে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অসুখও নেই। এখন তাঁর একটাই স্বপ্ন, পাওয়ারলিফটিং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে বিজয়ী হওয়া।
দুই ছেলে, ছেলেদের বউ, চার বছর বয়সী নাতি, এক মেয়ে আর স্বামীকে নিয়ে শাম্মীর সংসার। এই সংসারের কাজ গুছিয়ে, পরিবারের সবার রান্নাবান্না শেষ করে জিমে যান শাম্মী। কখনো শাড়ি পরেই জিমে হাজির হন। সেই শাড়ি পরেই তিনি ব্যায়াম করেন, পাওয়ারলিফটিংও করেন।
শাম্মীর কাছে শরীরচর্চা এখন শুধু খেলাধুলা নয়, ভালো থাকারও উপায়। তিনি বলেন, ‘এক দিন জিমে যেতে না পারলে এখন আর ভালো লাগে না।’
২০২৩ সালে প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পাওয়ারলিফটিং প্রতিযোগিতায় পদক জেতেন শাম্মী। এশিয়ান পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৩–এ ‘উইমেন মাস্টার–১ অনূর্ধ্ব-৬৩’ ক্যাটাগরির স্কোয়াটে ব্রোঞ্জপদক জিতে ইতিহাস গড়েন তিনি।
চারটি ডিমের সংসারে ভালোবাসা
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পরিবারের অমতে শামসুল হককে বিয়ে করেছিলেন মাধ্যমিক পাস শাম্মী। দুই পরিবারই তখন এ বিয়ে মেনে নেয়নি। এ কারণে এমন দিনও গেছে, একটি বাটার বান দুজন ভাগ করে খেয়ে দিন পার করেছেন বলে স্মৃতিচারণা করেছেন শাম্মী।
শাম্মীর সঙ্গে যেদিন কথা হয়, সেদিন বাসায় ছিলেন না তাঁর ব্যবসায়ী স্বামী শামসুল হক। পরে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুরুতে আমি একটু আপত্তি করেছিলাম। তবে এর পর থেকে যতটুকু পারি স্ত্রীর পাশে থাকার চেষ্টা করি।’
এই পথচলায় পরিবারের সমর্থনটা সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন শাম্মী। বিশেষ করে স্বামীর পাশে থাকা কতটা জরুরি, তা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘হয়তো বাসায় চারটি ডিম আছে, তখন স্বামী তা আমার জন্য তুলে রাখেন। কারণ, তিনি জানেন, আমার খাদ্যতালিকায় ডিম থাকা জরুরি।’
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হয় নিজের খরচে। অংশ নেওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকার ব্যবস্থাও স্বামী শামসুল হক করে দেন বলে জানিয়েছেন শাম্মী।
‘মায়ের কাজকে সম্মান করি’
শাম্মীর মেয়ে হৃদিশা মৌরিন এ লেভেল শেষ করেছেন। মায়ের কাজ নিয়ে তাঁর গর্ব আছে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি মায়ের কাজকে সম্মান করি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাকে নিয়ে কেউ কেউ বাজে মন্তব্য করেন। তখন খারাপ লাগে। তবে আমরা সেগুলো ইগনোর করি।’
ড্রয়িংরুমে পাশাপাশি রাখা ছেলের ক্রেস্ট আর শাম্মীর অর্জনের স্মারকগুলো যেন সেই পরিবারের গল্পই বলে। বড় ছেলে তানভীর ফয়সল তাঁকে জিমে নিয়ে গিয়েছিলেন। ছোট ছেলে সাজিদ ইকবাল একসময় ফুটবল খেলতেন। এখন আর আগের মতো খেলাধুলা করেন না।
এমনকি স্বামীকেও জিমে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন শাম্মী। এক সপ্তাহের বেশি টেকেনি তাঁর স্বামীর সেই জিমযাত্রা। কিন্তু শাম্মী থামেননি। তাঁর সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।
শুরুতে আমি একটু আপত্তি করেছিলাম। তবে এর পর থেকে যতটুকু পারি স্ত্রীর পাশে থাকার চেষ্টা করি।শামসুল হক, শাম্মীর স্বামী
‘আন্টি’ এখন জিমের আইডল
মেয়ে পড়াশোনা আর স্বামী ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। সংসার সামলানোর ব্যস্ততা নেই শাম্মীর। তাই ঘরের কাজ একটু গুছিয়ে রওনা দেন জিমে। কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবেও শাম্মীর কাছে পাওয়ারলিফটিংয়ের প্রশিক্ষণ নেন। সব শেষ করে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা।
শাম্মী বললেন, একসময় সংসার সামলাতেই সময় চলে যেত। এখন নিজে ভালো থাকার জন্য সময় পাওয়া যায়। এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের কোনো আপত্তি নেই বলেই তা করা সম্ভব হচ্ছে।
শাম্মী মিরপুরের রায়হান ফিটনেসে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন। সেখানে কেউ তাঁকে ‘আপা’, কেউ ‘আন্টি’ সম্বোধন করেন।
রায়হান ফিটনেসের আরেক প্রশিক্ষক নাইরুজ সুবহা প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনি (শাম্মী) আমাদের কাছে একজন আইডল। এই বয়সে তিনি যা পারেন, আমরা তা পারি না। তাঁর পজিটিভ এনার্জি দেখে শুধু মেয়েরা নন, ছেলেরাও উৎসাহিত হন।’
কথাটার সত্যতা বোঝা যায় জিমে শাম্মীর সঙ্গে কিছুক্ষণ থাকলেই। নির্দিষ্ট পোশাক পরে দ্রুত তৈরি হয়ে তিনি চলে যান পাওয়ারলিফটিং জোনে। বারবেলের দুই পাশে একের পর এক প্লেট যোগ হয়। আশপাশে তখন অনেকে তাকিয়ে থাকেন। শাম্মী বারবেল ধরেন, প্রস্তুতি নেন, তারপর অনায়াস ভঙ্গিতে তুলে ফেলেন ১২০ কেজি বা তার বেশি ওজন।
৫৪ বছর বয়সী একজন নারীকে এতটা ওজন তুলতে দেখে নতুনদের চোখে বিস্ময় থাকে। শাম্মীর কাছে অবশ্য বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়; বরং স্বাভাবিক। নিয়মিত অনুশীলন, খাবারে নিয়ন্ত্রণ আর নিজের ওপর বিশ্বাস—এই তিনটিই তাঁর কাছে শক্তির মূল কথা।
পাওয়ারলিফটিং শক্তির খেলা, যা তিনটি লিফটে সর্বোচ্চ ওজনের তিনটি প্রচেষ্টা নিয়ে গঠিত। যেমন স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস এবং ডেডলিফট। স্কোয়াট মানে ঘাড়ে, বেঞ্চ প্রেস মানে শুয়ে বুকের ওপর এবং ডেডলিফট মানে মাটি থেকে ওজন তুলতে হয়। এই তিন লিফটে সর্বোচ্চ ওজন তোলার ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হয়।
ছেলের বিয়ের দিনও প্রতিযোগিতা
বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা মোমিনুল হকও শাম্মীর এই জেদ আর অধ্যবসায়ের কথা বলেছেন।
মোমিনুল হক বলেন, ছেলের বিয়ের দিনও শাম্মী শিডিউল বদলে আগে সিলেকশন রাউন্ডে খেলেছেন। তারপর পারলার হয়ে বিয়েতে অংশ নিয়েছেন।
নারীদের খেলার কোয়ালিফাই রাউন্ডের দিনক্ষণ ঠিক। এ রাউন্ডে জিততে পারলেই চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ করা যাবে। অন্যদিকে একই দিনে আগে থেকেই ঠিক হয়ে ছিল বড় ছেলে তানভীর ফয়সলের বিয়ের দিন। হল বুকিংসহ সব ঠিক। বিয়ে বা প্রতিযোগিতার তারিখ কোনোটারই পরিবর্তন হবে না। শেষমেশ অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাব্যক্তিরা শাম্মীকে সকালে খেলায় অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।
শাম্মী বলেন, ‘ছেলের বিয়ের জন্য বাসাভর্তি মেহমান। কোয়ালিফাই রাউন্ডের আগের রাতে পরের দিন দুপুর পর্যন্ত কে কী খাবে, তা রান্না করি। রাতে ঘুমাতে পারিনি। সকালে খেলতে যাই। খেলা শেষ হতে হতে বেলা দুইটা বেজে যায়। তারপর দেখা গেল, ছেলের বাসরঘরের জন্য বেডশিট কেনা বাকি। তখন মার্কেটে গিয়ে তা কিনি। তারপর যাই পারলারে। তবে এটাও ঠিক, সব সামলে অনুষ্ঠানে আমি ঠিকই সবার আগে গিয়ে উপস্থিত হই।’
‘আন্টি বললেই সবাই বুঝতে পারেন কার কথা বলা হচ্ছে। এ খেলায় এখন পর্যন্ত তিনিই সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী। যে বয়সে নারীরা ভাবেন সব শেষ, সেই বয়সেই শাম্মী জীবনকে নতুনভাবে শুরু করেছেন’—এভাবেই বলেছেন মোমিনুল হক।
মোমিনুলের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের খরচে অংশ নিয়ে দেশের জন্য প্রথম স্বর্ণপদক আনা নারী খেলোয়াড় শাম্মী। খেলাধুলার পাশাপাশি চাকরিও করছেন। প্রায় প্রতিযোগিতায় তাঁর স্বামী খাবার নিয়ে পাশে বসে থাকেন। এসবই অন্যদের অনুপ্রেরণা দেয়।
তিনি (শাম্মী) আমাদের কাছে একজন আইডল। এই বয়সে তিনি যা পারেন, আমরা তা পারি না। তাঁর পজিটিভ এনার্জি দেখে শুধু মেয়েরা নন, ছেলেরাও উৎসাহিত হন।নাইরুজ সুবহা, প্রশিক্ষক, রায়হান ফিটনেস
পথটা সহজ নয়
পাওয়ারলিফটিং শক্তির খেলা, যা তিনটি লিফটে সর্বোচ্চ ওজনের তিনটি প্রচেষ্টা নিয়ে গঠিত। যেমন স্কোয়াট, বেঞ্চ প্রেস ও ডেডলিফট। স্কোয়াট মানে ঘাড়ে, বেঞ্চ প্রেস মানে শুয়ে বুকের ওপর এবং ডেডলিফট মানে মাটি থেকে ওজন তুলতে হয়। এই তিন লিফটে সর্বোচ্চ ওজন তোলার ভিত্তিতে ফল নির্ধারণ করা হয়।
তবে শক্তির এ খেলার পেছনে খরচও কম নয়। ভালো মানের বিশেষ বেল্ট, জুতা ও অন্যান্য সরঞ্জামের দাম বেশি। প্রতিদিনের খাবারেও খরচ আছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যেতে লাগে বিপুল অর্থ। পরিবার পাশে না থাকলে এ খেলায় নারীদের টিকে থাকা আরও কঠিন।
২০২৫ সালে ইস্তাম্বুলে এশিয়ান ওপেন অ্যান্ড মাস্টার্স ক্ল্যাসিক পাওয়ারলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৬৩ কেজি মাস্টার-২ বিভাগে প্রথম হন শাম্মী নাসরিন।
মোমিনুল হক বলেন, বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন এখনো সরকারের অনুমোদন পায়নি। খেলোয়াড়দের জন্য আলাদা জিম বা অফিস নেই। বিভিন্ন জিমে অনুশীলন করে খেলোয়াড়েরা দেশে-বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আর্থিক সহায়তাও দিতে পারে না সংগঠনটি।
অ্যাসোসিয়েশন শুরু থেকেই এ খেলায় নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছে। কোনো কোনো প্রতিযোগিতায় এখন ৪০ থেকে ৪৫ জন নারীকেও পাওয়া যাচ্ছে। তবে নারীর সংখ্যা বাড়লেও ঝরে পড়ার হার আরও বেশি বলে জানিয়েছেন মোমিনুল।
লক্ষ্য এবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ
শাম্মীর সামনে এখন নতুন স্বপ্ন—পাওয়ারলিফটিং ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে বিজয়ী হওয়া। সুস্থভাবে বেঁচে থাকলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত খেলার ইচ্ছা আছে তাঁর।
এ বিষয়ে মোমিনুল হকও আশাবাদী। তাঁর ভাষায়, শাম্মী ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার জন্য নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করছেন, তাতে সবাই আশাবাদী। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ নতুন কোনো রেকর্ড গড়তে পারবে।
শাম্মী ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার জন্য নিজেকে যেভাবে প্রস্তুত করছেন, তাতে সবাই আশাবাদী। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশ নতুন কোনো রেকর্ড গড়তে পারবে।মোমিনুল হক, প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ পাওয়ারলিফটিং অ্যাসোসিয়েশন
তবে চাকরি না করে শুধু খেলায় মনোযোগ দিতে পারলে এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আর্থিক বিষয়টি ভাবতে না হলে শাম্মীর এই পথ আরও সহজ হতো বলে মন্তব্য করেছেন মোমিনুল।
এরপরও থামতে চান না শাম্মী। সবার উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সুস্থ থাকার জন্য হলেও সবাইকে জিমে যাওয়া উচিত। পাওয়ারলিফটিং করতে হলে নিজেকে ভালোবাসতে হবে, নিয়ম মেনে চলতে হবে, মনোবল ও সাহস থাকতে হবে।
সন্ধ্যার পর জিম থেকে বেরিয়ে শাম্মী আবার ফিরবেন সংসারে। রান্না, পরিবার, নাতি—সব আগের মতোই থাকবে। শুধু তাঁর স্বপ্নটা হয়তো আগের মতো নেই। ৫৪ বছর বয়সে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের দিকে।