রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ‘নব্য জেএমবি’র আরও দুই সদস্যের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিরা হলেন মো. বেলায়েত হোসেন (৩১) ও তোফায়েল হোসেন (৩৭)।
পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম এ আদেশ দেন। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি আহসান জহীর খান নামের এই মামলার আরেক আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আজ শেরেবাংলা নগর থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় দুই আসামিকে রিমান্ডের জন্য আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে চার দিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পরিদর্শক এস এম মিজানুর রহমান রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, এর আগে গ্রেপ্তার আসামি আহসান জহীর খান জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বেলায়েত ও তোফায়েলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আসামি বেলায়েতকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে সোমবার দিবাগত রাত ২টা ৪০ মিনিটে এবং তোফায়েলকে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ‘আসামি বেলায়েত হোসেনের মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। আসামিরা স্বীকার করেছেন, তাঁরা নব্য জেএমবির আদর্শ সমর্থন করেন।’
সংগঠনের কর্মপরিকল্পনা জানার জন্য তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকের পাশে কয়েকজন উগ্রবাদী আলোচনার উদ্দেশে জড়ো হন। পুলিশ এগিয়ে গেলে পালানোর চেষ্টার সময় আহসান জহীর খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় সিটিটিসির এসআই মো. আরমান হোসেন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। তাতে বলা হয়, আসামিরা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখতেন এবং রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।