স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

রাজধানীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে ৪ হাসপাতাল ও ৬ ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ

ভুয়া চিকিৎসক, নিয়োগপত্রহীন নার্স, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ছাড়াই আইসিইউ পরিচালনা এবং রোগনির্ণয় কেন্দ্রে (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) রান্নাবান্নাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর চারটি হাসপাতাল ও ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের নির্দেশে ২৩, ২৪ ও ২৫ মার্চ টানা তিন দিন এসব প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি আরও দুটি হাসপাতালের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) ও এনআইসিইউতে (নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) রোগী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকা এবং অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অভিযানে যে চারটি হাসপাতাল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো হলো—মিরপুর রোডের রূপায়ণ শেলফোর্ড টাওয়ারের ডক্টরস কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নিমতলীর আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের টিজি মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং চানখাঁরপুলের অথেনটিক হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

ডক্টরস কেয়ার হাসপাতালে রোগীদের যাঁরা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছিলেন, তাঁদের ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল। এ ছাড়া এই হাসপাতালে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। নোংরা পরিবেশ, সংকীর্ণ সিঁড়ি ও অনুমতি ছাড়া বিদেশি চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ায় আহমেদ স্পেশালাইজড হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্যদিকে টিজি মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়োগপত্র ছিল না এবং অভিযানের সময় কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। আর ৫০ শয্যার অথেনটিক হাসপাতালে ১৫ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও মাত্র একজন চিকিৎসক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল।

যে দুটি হাসপাতালের আইসিইউ ও এনআইসিইউতে রোগী ভর্তি বন্ধ করা হয়েছে, সেগুলো হলো—মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের কলেজগেট এলাকার প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একই এলাকার যমুনা হাসপাতাল।

বন্ধ ঘোষিত ছয়টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাব হলো—মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, চকবাজারের অ্যাকটিভ ব্লাড ব্যাংক, ট্রান্সফিউশন অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রাইম টিজি ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, চানখাঁরপুলের হোসেনি দালান সড়কের ঢাকা ডায়াগনস্টিক ও কনসালটেশন সেন্টার, পিউর সায়েন্টিফিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং অ্যাডভান্সড হেলথ এইড।

রয়েল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের অধীনে থাকা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপর্যাপ্ত জায়গায় নমুনা সংগ্রহ ও ডাস্টবিন না থাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করা হয়েছে প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্ট না থাকার কারণে। একই অপরাধে অ্যাডভান্সড হেলথ এইড বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।