ভারত, উগান্ডার পর ঘুষের তথ্য জানাতে বাংলাদেশে ওয়েবসাইট, কতটা সফল হবে

ওয়েবসাইটটিতে অভিযোগের সঙ্গে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে, সেসব তথ্য দেওয়া যায়। পাঁচ দিনে আসা অভিযোগের সংখ্যা ৩ হাজার ৮০০–এর বেশি। অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, সেই অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। ‘ঘুষ.সাইট’ (ghush.site) নামের এ ওয়েবসাইটে নাগরিকেরা কোন দপ্তরে, কী সেবার জন্য কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে, তা জানাতে পারছেন।

সাইটটির উদ্যোক্তাদের ভাষ্য, এর উদ্দেশ্য শুধু অভিযোগ জমা নেওয়া নয়; বরং এসব তথ্য এক জায়গায় এনে নাগরিকদের ঘুষের ধরন ও প্রবণতা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া।

তবে এ ধারণা একেবারে নতুন নয়। দেড় দশক আগে প্রতিবেশী ভারতে শুরু হয়েছিল ‘আই পেইড আ ব্রাইব’ নামের একটি উদ্যোগ। পরে উগান্ডা, কেনিয়া, নাইজেরিয়া, সিয়েরা লিওনসহ বিভিন্ন দেশেও ঘুষের অভিজ্ঞতা সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে। কোথাও এসব উদ্যোগ সরকারি সংস্থার নজরে এসেছে, কোথাও আবার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

সম্প্রতি ভারতে ‘ব্রাইবস ডট এফওয়াইআই’ নামে নতুন আরও একটি উদ্যোগ বিপুল জনপ্রিয় হওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও এ মডেলের সীমাবদ্ধতাগুলো সামনে এনেছে। প্রশ্ন উঠছে, শুধু ঘুষের তথ্য সংগ্রহ করে কি ঘুষ কমানো সম্ভব? বাংলাদেশের ‘ঘুষ.সাইট’ কতটা সফল হতে পারবে?

ভারত থেকে শুরু

২০১০ সালে ভারতের বেঙ্গালুরুতে ‘আই পেইড আ ব্রাইব’ ওয়েবসাইট চালু করে নাগরিক সংগঠন জনাগ্রহ সেন্টার ফর সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ডেমোক্রেসি। সংগঠনটির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, রমেশ রামানাথন ও স্বাতী রামানাথন দম্পতি এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

ধারণাটি ছিল সহজ। সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কেউ ঘুষ দিলে, ঘুষ দিতে অস্বীকার করলে কিংবা ঘুষ ছাড়াই সেবা পেলে—সে অভিজ্ঞতা ওয়েবসাইটে জানাতে পারতেন। এসব তথ্য এক জায়গায় জমা করে কোন দপ্তরে, কী ধরনের সেবায় এবং কী পরিমাণ ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তার একটি চিত্র তৈরি করাই ছিল উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য।

ভারতের গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের মধ্যে সাইটটিতে দেড় কোটির বেশি ভিজিট এবং ৩৬ হাজারের বেশি ঘুষের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। জনাগ্রহের উদ্যোগে আরও বেশ কয়েকটি দেশেও একই ধরনের প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছিল। সে সময় এ উদ্যোগের কিছু প্রশাসনিক প্রভাবও দেখা গিয়েছিল। নাগরিকদের জমা দেওয়া অভিযোগের তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার কিছু পদক্ষেপও নিয়েছিল বলেও গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়।

তবে ‘আই পেইড আ ব্রাইব’ এখন আর সচল নেই। সাইটটি ঠিক কবে বন্ধ হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এ মডেল কতটা টেকসই, সেটিও একটি প্রশ্ন।

পরিচয় গোপন রেখে ঘুষের অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ তৈরি হওয়া ইতিবাচক। নাগরিকেরা ঘুষের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন—এটি গুরুত্বপূর্ণ।
ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক

উগান্ডা, কেনিয়া, নাইজেরিয়াতেও উদ্যোগ

ভারতের উদ্যোগটি পরে অন্য দেশেও অনুসরণ করা হয়। উগান্ডায় অ্যাকশনএইড ইন্টারন্যাশনাল একই নামে একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ চালু করে। সেখানে নাগরিকেরা পুলিশ, হাসপাতাল, স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘুষ দাবি বা লেনদেনের ঘটনা বেনামে জানাতে পারেন। অভিযোগের পর একটি ট্র্যাকিং কোড দিয়ে তার অগ্রগতিও অনুসরণ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ওয়েবসাইটটি এখনো চালু আছে।

কেনিয়ায় ২০১১ সালে ‘হাতারি’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম চালু হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ক্রিশ্চিয়ান সায়েন্স মনিটরের ওই সময়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাগরিকেরা টেক্সট মেসেজ, ই-মেইল বা টুইটের মাধ্যমে ঘুষের ঘটনা জানাতে পারতেন। পরে এসব ঘটনা মানচিত্রে দেখানো হতো।

এসব উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন থেকেই গেছে—অভিযোগের তথ্য সংগ্রহের পর সে তথ্য দিয়ে বাস্তবে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে? অভিযোগের সংখ্যা বাড়া আর ঘুষ কমে যাওয়া যে এক বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাগুলোয় সেটিই বড় শিক্ষা

সিয়েরা লিওনেও দুর্নীতি দমন কমিশন ‘পে নো ব্রাইব’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছিল। অনলাইন, মোবাইল অ্যাপ ও টোল-ফ্রি হটলাইনের মাধ্যমে সেখানে বেনামে অভিযোগ জানানোর সুযোগ ছিল।

নাইজেরিয়াতেও ২০১৭ সালে ‘রিপোর্ট ইওরসেলফ’ নামে একটি ওয়েবভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়। সেখানেও নাগরিকেরা ঘুষ চাওয়া বা দেওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারতেন।

তবে এসব উদ্যোগের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন থেকেই গেছে—অভিযোগের তথ্য সংগ্রহের পর সে তথ্য দিয়ে বাস্তবে কী পরিবর্তন আনা হয়েছে? অভিযোগের সংখ্যা বাড়া আর ঘুষ কমে যাওয়া যে এক বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাগুলোয় সেটিই বড় শিক্ষা।

ভারতে নতুন উদ্যোগ

ওয়েবসাইটে ঘুষের তথ্য জানানোর এই মডেল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় চলতি বছর ভারতে ‘ব্রাইবস ডট এফওয়াইআই’ চালুর পর। ভারতের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য বলছে, ২০ বছর বয়সী এক প্রকৌশল শিক্ষার্থী গত জুলাইয়ে সাইটটি চালু করেন।

ব্যবহারকারীরা কোন দপ্তরে কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে, কোথায় ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁরা ঘুষ দিয়েছেন কি না—এসব তথ্য জানাতে পারতেন। অল্প সময়ের মধ্যেই উদ্যোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ১৯ আগস্ট হঠাৎ সাইটটি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন এর উদ্যোক্তারা।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, কোনো উদ্যোগ ছোট পরিসরে শুরু করা সহজ, কিন্তু সেটি হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে গেলে তথ্যের নিরাপত্তা, ভুয়া অভিযোগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আইনি ঝুঁকি সামলানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।

এনডিটিভির ১৯ আগস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শেষ ৪৮ ঘণ্টায় প্ল্যাটফর্মটিতে ৫০ লাখের বেশি অনুরোধ আসে এবং প্রায় দুই লাখ নতুন ব্যবহারকারী যুক্ত হন। এত বিপুল চাপ সামলাতে গিয়ে প্ল্যাটফর্মটির সক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, এত বিপুল মানুষের চাপ সামলানোর মতো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তাঁদের ছিল না। একই সঙ্গে এত মানুষের সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও তাঁদের ছিল না।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, বাংলাদেশের ‘ঘুষ.সাইট’–এর জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে। কারণ, কোনো উদ্যোগ ছোট পরিসরে শুরু করা সহজ, কিন্তু সেটি হঠাৎ জনপ্রিয় হয়ে গেলে তথ্যের নিরাপত্তা, ভুয়া অভিযোগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আইনি ঝুঁকি সামলানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।

৫ দিনে ৬৬ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ

‘ব্রাইবস ডট এফওয়াইআই’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ২১ আগস্ট বাংলাদেশে ‘ঘুষ.সাইট’ চালু করেন উদ্যোক্তা সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ। সাইটটি চালুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ ব্যাপক সাড়াও দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত পাঁচ দিনে অভিযোগের সংখ্যা ৩ হাজার ৮০০–এর বেশি। আর অভিযোগে দাবিকৃত ঘুষের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা।

ওয়েবসাইটটিতে অভিযোগের সঙ্গে দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা, কত টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত কী হয়েছে, সেসব তথ্য দেওয়া যায়। তবে অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশ করা হয় না। এ ক্ষেত্রে ভুয়া অভিযোগের আশঙ্কার কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা।

বাংলাদেশে কেন প্রয়োজন

বাংলাদেশে ঘুষ ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। প্রতিবছর সেবা খাতে দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করে সংস্থাটি।

টিআইবির ‘সেবা খাতে দুর্নীতি: জাতীয় খানা জরিপ ২০২৫’–এর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে এক বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন সেবা খাতে মোট ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেন হয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার মনে করে, ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন।

এই বাস্তবতায় ঘুষের অভিজ্ঞতা জানানোর এই প্ল্যাটফর্মকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিচয় গোপন রেখে ঘুষের অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ তৈরি হওয়া ইতিবাচক। নাগরিকেরা ঘুষের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন—এটি গুরুত্বপূর্ণ।

কত মানুষ অভিযোগ করল, সেই সংখ্যা তাঁদের সাফল্য নয়; বরং মানুষ আগেভাগেই সরকারি সেবার খরচ সম্পর্কে জেনে, ঘুষ চাইলে যেন তা প্রত্যাখান করতে পারে, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য।
সাইফ কবির , উদ্যোক্তা, ‘ঘুষ.সাইট

তবে ইফতেখারুজ্জামানের মতে, উদ্যোগটির প্রভাব অনেকটাই নির্ভর করবে এসব তথ্য দিয়ে উদ্যোক্তারা কী করেন, তার ওপর। তথ্য বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানকে জানানো এবং তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা গেলে উদ্যোগটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি আরও বলেন, মানুষের দেওয়া তথ্য যদি কোনো কাজে না আসে, তাহলে একপর্যায়ে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হতে পারে। তাই তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জানানো এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তথ্য প্রকাশ পেলেই কি ঘুষ কমবে

ইউরোপিয়ান ইকোনমিক রিভিউ জার্নালে ২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু বেনামে ঘুষের অভিজ্ঞতা জানানোর প্ল্যাটফর্ম থাকলেই ঘুষ কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলক বেশি কার্যকর হতে পারে, যখন সেখানে ঘুষের পরিমাণ ও ঘটনার স্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকে এবং নাগরিকেরা সেই তথ্য ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত কম দুর্নীতিগ্রস্ত সেবা বা দপ্তর শনাক্ত করতে পারেন।

ভারতের ‘আই পেইড আ ব্রাইব’–এর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান যখন এসব তথ্য গুরুত্ব দিয়ে দেখে, তখন এর প্রভাব তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে উগান্ডা, কেনিয়া বা নাইজেরিয়ার মতো উদ্যোগগুলোর ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে ঘুষ কমানোর সরাসরি প্রমাণ স্পষ্ট নয়।

সাইটটির উদ্যোক্তারা অবশ্য বলছেন, সেবাগ্রহীতাদের আগে থেকে সর্তক করাও তাঁদের অন্যতম লক্ষ্য। সাইফ কবির প্রথম আলোকে বলেন, কত মানুষ অভিযোগ করল, সেই সংখ্যা তাঁদের সাফল্য নয়; বরং মানুষ আগেভাগেই সরকারি সেবার খরচ সম্পর্কে জেনে, ঘুষ চাইলে যেন তা প্রত্যাখান করতে পারে, সেটিই তাঁদের লক্ষ্য।

সাইফ কবির আরও বলেন, তাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা হলো সাইটটা চালু রাখা। এরপর ডেটার মান আরও উন্নত করা, যাতে দপ্তর ও সেবাভিত্তিক হিসাব বিশ্বাসযোগ্যভাবে মেলানো যায়, জেলাভিত্তিক কভারেজ বাড়ানো যায়। তথ্য এমনভাবে উন্মুক্ত রাখা, যাতে সাংবাদিক ও গবেষকেরা নিজেরাই বিশ্লেষণ করতে পারেন।