সিপিডির সম্মেলনের শেষ দিন

উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে পরিবেশ সুরক্ষা জরুরি

বাংলাদেশের ৫০ বছর নিয়ে সিপিডির আলোচনা। তৈরি পোশাক খাত, ধান চাষ ও প্রবাসী আয়ের বাইরে অন্য খাতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ।

রিজওয়ানুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ, ফাহমিদা খাতুন, শ্রীরাধা দত্ত
রিজওয়ানুল ইসলাম, ইমতিয়াজ আহমেদ, ফাহমিদা খাতুন, শ্রীরাধা দত্ত

উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি হচ্ছে। এটা যেমন মুদ্রার একটি দিক, আবার এ উন্নয়ন করতে গিয়ে আমাদের পরিবেশ ও প্রকৃতির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করছে। আবার এ পর্যন্ত আমাদের উন্নয়নের গতি ধরে রেখেছে ধান, তৈরি পোশাক খাত আর প্রবাসী আয়। কিন্তু উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে আমাদের যেতে হলে নদী ও বায়ুদূষণ কমাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা আর যৌথ নদীগুলো থেকে পানি পাওয়া নিশ্চিত করতে হবে। আর ওই তিন খাতের বাইরে অন্য খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর: অতীতে দৃষ্টিপাত ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সম্মেলনের শেষ দিনে এক প্যানেল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া কর্মসূচির সহায়তায় এ ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে ‘কস্ট অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ অব ডেভেলপমেন্ট’ অধিবেশনে বক্তারা দেশের উন্নয়নের কারণে পরিবেশের ক্ষতি ও সামনের দিনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন।

সভায় বিশ্ব শ্রম সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানুল ইসলাম বাংলাদেশের ৫০ বছরের অর্থনৈতিক উন্নয়নের তিনটি খাতের ভূমিকা তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, আশির দশকে বাংলাদেশে উচ্চ ফলনশীল ধানের উৎপাদন জনপ্রিয় হয়। তাতে দ্রুত উৎপাদন বাড়ে। ওই সময়ে দেশে তৈরি পোশাক খাতের বিকাশ ঘটে। সত্তর দশকে প্রচুর বাংলাদেশি প্রবাসে যাওয়া শুরু করেন, আয় বাড়ে। কিন্তু এই তিন খাতের ওপরে নির্ভর করে আমাদের পক্ষে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে টিকে থাকা যাবে না। আরও বেশি আয় হয় এমন খাতগুলোকে এগিয়ে নিতে হবে।

রিজওয়ানুল ইসলামের আলোচনার ওপরে আলোকপাত করতে গিয়ে সিপিডির জ্যেষ্ঠ ফেলো খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের ওই তিন খাতের উন্নতির পেছনে দেশের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেন। তিনি ২০০০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাক খাতের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া এবং কৃষি খাতে প্রণোদনা সহায়তাসহ নানা ধরনের সরকারি উদ্যোগের ভূমিকা তুলে ধরেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমাদের আঞ্চলিক ভূরাজনীতির সুবিধাগুলো নিয়ে এগোতে হবে। বঙ্গবন্ধু পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে “সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়” বলে যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধারণা দিয়েছিলেন, সেই পথে বাংলাদেশ এখনো এগোচ্ছে। কোনো দেশের সঙ্গে শত্রুতার সম্পর্ক তৈরি না করে বাংলাদেশ উন্নয়ন করে যাচ্ছে।’ এ ধারা ধরে রাখার ওপরে গুরুত্ব দেন তিনি।

ভারতের স্বামী বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ ফেলো শ্রীরাধা দত্ত বাংলাদেশের সামনের দিনের উন্নতির জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপরে জোর দেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ আঞ্চলিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারে।

ব্রুনেইয়ের দারুস সালাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতেখার ইকবাল গণমাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীতে সাকার মাছ পাওয়ার তথ্য তুলে ধরে বলেন, ‘পদ্মা নদীতেও এখন এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণত কোনো নদীতে অক্সিজেনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায় নেমে এলে এই মাছের পরিমাণ বেড়ে যায়।

ব্র্যাকের ক্লাইমেট ব্রিজ ফান্ডের প্রধান গোলাম রব্বানী বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈশ্বিক তহবিল পাওয়ার চেষ্টা বাড়ানোর ওপরে গুরুত্ব দেন।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বাংলাদেশের উন্নয়নকে টেকসই করতে এবং মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে অর্থনীতির অন্য খাতগুলোকে শক্তিশালী করার ওপরে জোর দেন। তথ্যপ্রযুক্তি বা সেবা খাতকে আরও বেশি জোরদার করার ওপরে গুরুত্ব দেন তিনি।