
ভারতীয় সিনেমা পুষ্পা, কেজিএফ ও আরআরআর; ভাইরাল গান কাঁচা বাদাম থেকে সদ্য বিয়ে করা বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাটের নামও বাদ পড়েনি। এসব নাম কার্ডে লিখে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে পোশাকের ওপর। না, হালে জনপ্রিয়তা পাওয়া এসব চলচ্চিত্র বা গানের নামে নতুন কোনো পোশাক বাজারে আসেনি। বরং শারারা ও ঘারারা ধরনের চেনা পোশাকের গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছে পুষ্পা থেকে কাঁচা বাদামের নাম। মূলত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিক্রি বাড়াতেই এমন কৌশল নিয়েছেন বিক্রেতা। রাজধানীর বেশ কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে এ চিত্র দেখা গেল।
গতকাল রোববার রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের জুনাইন কালেকশনে হাজির হতেই দেখা মিলল সারি সারি ম্যানিকুইনের। তাদের পরনে থাকা সব পোশাকেই কোনো না কোনো ভারতীয় চলচ্চিত্রের নাম লেখা। এমন নামকরণের কারণ জানতে চাইলে বিক্রেতা শান্ত হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই নামে আসলে পোশাক হয় না। কাস্টমার টানার জন্য আমরাই এই সব নামে ডাকি। ঈদে বিক্রি বাড়ানোর জন্য ভাইরাল নাম রাখা হয়।’ কেবল জুনাইন কালেকশনই নয়, গাউছিয়ার অনেক দোকানেই দেখা গেল একই দৃশ্য। কিসের ভিত্তিতে পোশাকের এমন নাম বাছাই করা হয়, জানতে চাইলে বিক্রেতারা জানান, সম্প্রতি জনপ্রিয়তা পাওয়া চলচ্চিত্র বা গানের নামে পাইকারি দোকান বা তাঁরা নিজেরাই এসব নাম ঠিক করে থাকেন।
নূর ম্যানশন, গাউছিয়া ও নিউমার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিক্রেতার উদ্দেশ্য অনেকটাই সফল। চটকদার নামে আকৃষ্ট হয়ে হয়েই হোক বা অন্য কারণে হোক, ঘারারা ও শারারা পোশাকগুলোই বেশি চলছে। তবে অনেক ক্রেতার দাবি, ভারতীয় সিনেমার নাম দেখে নয়, বরং পোশাক দেখেই তাঁরা কিনছেন।
লালবাগ থেকে আসা গৃহিণী আসমা জাহান প্রথম আলোকে বলেন, আগে থেকেই তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ে বায়না ধরেছিল, ঈদে শারারা কিনে দিতে হবে। মেয়ের পছন্দ ও বাজেটে মিললেই তিনি কিনে নেবেন। বাজার ঘুরে জানা গেল, কয়েক বছর ধরেই শারারা ও ঘারারার চাহিদা রয়েছে।
হাঁটুসমান বা তার চেয়ে একটু বেশি লম্বা কামিজ এবং সালোয়ারে হাঁটু থেকে নিচের দিকে অনেক কুঁচি, সঙ্গে ওড়নাসহ যে পোশাক, সেটাকে ঘারারা বলা হচ্ছে। আর সাধারণ সালোয়ারের জায়গায় স্কার্ট বা চওড়া ঘেরওয়ালা সালোয়ার থাকলে সেটাকে বলে শারারা। পোশাকগুলোর দাম দেড় হাজার থেকে ছয় হাজারের মধ্যে। নিউমার্কেটের কোয়ালিটি ফ্যাশনের বিক্রেতা জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘এই ঈদে ড্রেস দুইটাই—শারারা ও ঘারারা। ছোট ও তরুণীরা ঘারারা ও শারারা নিচ্ছে বেশি।’ তিনি জানান, মূলত ভারত থেকে এসব পোশাক আসে। স্থানীয়ভাবেও কিছু তৈরি হয়।
পোশাকের দাম এবার কিছুটা বাড়তি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। আয়শা আক্তার নামের একজন গৃহিণী প্রথম আলোকে বলেন, আগে সুতির সাধারণ একটি সালোয়ার কামিজ ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কেনা যেত। এবার ২ হাজার টাকার নিচে সালোয়ার কামিজ নেই।
বাড়তি দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ সম্পর্কে বসুন্ধরা সিটির পোশাকের দোকান দেশী দশের একটি ব্র্যান্ড দেশালের ইনচার্জ ইব্রাহিম সজীব জানান, সুতার দাম বাড়তি। বিশ্ববাজারে সবকিছুরই দাম বেড়েছে। দুই হাজার টাকার নিচে এখন এক সেট সালোয়ার-কামিজ-ওড়না দেওয়া সম্ভব হয় না।