পোস্টার নেই কেবল নির্ধারিত স্থানেই

পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত স্থান ফাঁকা। অথচ পোস্টার লাগানো হয়েছে পেছনের দেয়ালে। গত সোমবার মিরপুর–২ নম্বরে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে। প্রথম আলো
পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত স্থান ফাঁকা। অথচ পোস্টার লাগানো হয়েছে পেছনের দেয়ালে। গত সোমবার মিরপুর–২ নম্বরে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে।  প্রথম আলো

নগরের দেয়াল ছেয়ে গেছে পোস্টারে। ফাঁকা জায়গা পাওয়া মুশকিল। ফাঁকা জায়গা না পেয়ে পোস্টারের ওপর পোস্টার সাঁটানো হয়। অথচ যেখানে পোস্টার লাগানোর কথা, সেসব জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে দিনের পর দিন। এই চিত্র ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার। 

কারণ হিসেবে অনেকে বলছেন, পোস্টার লাগানোর নির্ধারিত জায়গা সম্পর্কে লোকজন তেমন জানেন না। এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনও কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আবার অনেক এলাকায় পোস্টার লাগানোর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনের (এসটিএস) পাশে। তাই লোকজন সেখানে পোস্টার লাগানোর ব্যাপারে আগ্রহী নন।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেয়াললিখন ও পোস্টার লাগানো নিয়ন্ত্রণ আইন গেজেট আকারে প্রকাশ করে সরকার। আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোনো দেয়ালে বা স্থানে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, পোস্টার লাগানোর জন্য ফেব্রুয়ারিতে ১৯টি জায়গায় ২০টি স্টিলের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যে কেউ চাইলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেগুলো বিনা মূল্যে ব্যবহার করতে পারবে। স্ট্যান্ডটি ব্যবহারের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সাত দিনের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এখন স্ট্যান্ডগুলো খালি পড়ে থাকায় সময়সীমার বিধিটা শিথিল রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেট, মিরপুর টোলারবাগ আবাসিক এলাকা, মিরপুর-১ রাইনখোলা মোড়, নিকেতন, মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সেন্টার, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে টিঅ্যান্ডটি মাঠের পাশে, মিরপুর-২ নম্বরে পিডব্লিউডি স্টাফ কোয়ার্টারের সামনে ও প্রগতি সরণির কোকাকোলা মোড় এলাকায় ডিএনসিসির পোস্টার লাগানোর স্ট্যান্ডগুলো খালি পড়ে আছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় নির্ধারিত স্থানের পাশে এসটিএসের দেয়ালে পোস্টার লাগানো।
মিরপুর টোলারবাগ আবাসিক এলাকায় থাকা এসটিএসের একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, প্রায় এক মাস আগে পোস্টারের স্ট্যান্ডটি সেখানে স্থাপন করা হয়েছে। স্থাপনের পর থেকেই স্ট্যান্ডটি খালি পড়ে আছে।
অপর একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘ডাস্টবিনের সামনের জায়গা দিয়ে মানুষ নাক-মুখ চেপে কোনোমতে পার হয়। এখানে কি কেউ পোস্টার দেখতে আইব?’
এসটিএসের পাশে পোস্টারের জায়গা নির্ধারণ করায় এটি ব্যবহারে কেউ আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেন একাধিক পথচারী। তাঁরা বলেন, পোস্টার-ব্যানার লাগানোর উদ্দেশ্য প্রচার-প্রচারণা। কিন্তু এমন জায়গায় পোস্টার লাগালে কি প্রচার-প্রচারণা হবে?
নতুন বাজার এলাকার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। কিন্তু জনসাধারণ বিষয়টি জানে না। সিটি করপোরেশন জানানোর ব্যবস্থাও করেনি। তাই কেউ ব্যবহার করছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর আবদুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, জনগণকে জানাতে আনুষ্ঠানিক কিছু করা হয়নি। তবে আঞ্চলিকভাবে বিষয়টা জানানো হচ্ছে।
বেশির ভাগ পোস্টার লাগানোর স্ট্যান্ড এসটিএসের পাশে কেন? এ সম্পর্কে জানতে চাইলে কমোডর আবদুর রাজ্জাক বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের সুবিধার্থে এগুলো এসটিএসের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে।
পোস্টার লাগানোর এমন সুযোগ করে দেওয়ার পরও স্ট্যান্ড খালি পড়ে থাকার জন্য মানসিকতা আর বদ অভ্যাসকে দায়ী করে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘নিজের শহর নিজে পরিষ্কার রাখব, আমাদের এমন মানসিকতা নেই। পোস্টার লাগানো নিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের যে বদ অভ্যাস, সেটি পরিবর্তন করতেও সময়ের প্রয়োজন।’