গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবি করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ)। পাশাপাশি ধর্ষণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনারও বিচার দাবি করেছে তারা।
আজ শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা এসব দাবি জানান। গত বুধবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে অপরাধীদের বিচারসহ চার দফা দাবিতে সেদিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা গোপালগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান নেন। পরদিন সকালে তাঁরা গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়া এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন।
দলবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে ডাকা বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুক্তা বাড়ৈ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। ধর্ষণের বিরুদ্ধে যখন যেখানেই কোনো আন্দোলন হয়, সেখানেই ক্ষমতাসীন দলের পেটোয়া বাহিনী হামলা করে। এ জন্যই কি দেশ স্বাধীন হয়েছিল? দেশে এক অন্যায় ব্যবস্থা চলছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আমাদের এক বিবর্ণ বাংলাদেশ দেখতে হচ্ছে। আজ মানুষের মুখে হাসি নেই। কোনো ঘটনার বিচার হয় না। দেশে টাকা যাঁর, বিচারও তাঁর।’
বশেমুরবিপ্রবি প্রশাসনকে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান মুক্তা বাড়ৈ। তিনি বলেন, অবিলম্বে বশেমুরবিপ্রবির সব শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আবাসন নিশ্চিত হওয়ার আগপর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ছাত্রী ধর্ষণে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
ছাত্র ফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাজীব কান্তি রায় বলেন, বশেমুরবিপ্রবির ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জড়িত। এ ঘটনা অত্যন্ত জঘন্য এবং নারীর প্রতি সহিংসতার এক চরম প্রকাশ। নারী নিপীড়নসহ সব ধরনের নির্যাতনকে সমবলে উৎপাটন করতে হলে আমাদের একটা সামাজিক নিরাপত্তাবলয় তৈরি করতে হবে। এসব ঘটনার বিচার করতে পারলে দৃষ্টান্ত তৈরি হবে।
২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদ। এ ঘটনার এক বছর পূর্তি হয়েছে আজ। সমাবেশ থেকে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা লেখক মুশতাক আহমেদ ‘হত্যার’ বিচারও দাবি করেন।
ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শোভন রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অনিক কুমার দাস প্রমুখ বক্তব্য দেন।