মোহাম্মদপুরে বুস্টার ডোজ নিতে ভিড় কম

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গণটিকা কার্যক্রমের বুস্টার ডোজ (তৃতীয় ডোজ) দেওয়ার প্রথম দিনে খুব বেশি ভিড় খুব একটা চোখে পড়েনি। রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার দুটি কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা যায়, টিকা নিতে মানুষ আসছেন। ভিড় না থাকায় কাউকেই খুব বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে না।

আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছে টিকা কার্যক্রম। মোহাম্মদপুরে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নারী-পুরুষ মিলিয়ে টিকা নিয়েছেন মোট ৫৭ জন। নারী ৩০ ও পুরুষ ২৭ জন। আর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে টিকা নিয়েছেন ৭৪ জন। নারী ৪৬ ও পুরুষ ২৮ জন। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, টিকা নিয়ে আসা ব্যক্তিদের অধিকাংশ মধ্যবয়সী ও বৃদ্ধ। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত চলবে গণটিকা কার্যক্রম।

৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রের স্বাস্থ্যকর্মী লক্ষ্মী রানী বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজ থেকে গণটিকার বুস্টার ডোজ শুরুর বিষয়টি অনেকেই জানেন না। শুরুর দিন তাই ভিড় কম। তাই অনেকেই আসছেন যারা খুদেবার্তা (এসএমএস) পাননি, তারপরও সবাইকেই টিকা দিচ্ছি।’

ভিড় কেন কম তা জানালেন মোহাম্মদপুর নগর মাতৃসদনের অধীনে থাকা কেন্দ্রের কর্মী। নগর মাতৃসদনের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মাতৃসদনের অধীন সবগুলো নিয়মিত ও গণটিকাকেন্দ্র থেকে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়া ৬৭ হাজার মানুষের বুস্টার ডোজ ঝুলে ছিল। গণটিকাকেন্দ্রে দুটি ডোজ নেওয়া ব্যক্তিদেরও মাতৃসদনে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

সে কারণে এখন মাত্র ৯ হাজার ব্যক্তির বুস্টার ডোজ বাকি আছে। তাই ভিড় কম।’
৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রটিতে আজ ৮০০ জনকে বুস্টার ডোজ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নারী-পুরুষের জন্য আলাদা আলাদা স্থানে টিকা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১০ জন টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

অন্যদিকে সূচনা কমিউনিটি সেন্টারে ৪০০ জনের জন্য টিকা আনা হয়েছে। তবে প্রয়োজন হলে আরও ডোজ এনে অনেককেই টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এই কেন্দ্রে সেবা দিচ্ছেন দুজন।

দীর্ঘদিন পর বুস্টার ডোজ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পর চার মাস পার করেছেন, এমন ব্যক্তিরাই বুস্টার ডোজ পাবেন। কিন্তু করোনার টিকার বুস্টার ডোজের বিশেষ কার্যক্রম শুরু হয়েছে দীর্ঘসময় পর। আজ বুস্টার ডোজ নিতে আসা অধিকাংশই গণটিকা কার্যক্রমে দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন গত বছরের সেপ্টেম্বরে, অর্থাৎ ৮ মাস আগে।

সালমা বেগম গত সেপ্টেম্বরের ৯ তারিখ দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছিলেন। বললেন, বুস্টার ডোজ দিতেই হবে, বিষয়টা তাঁর জানা ছিল না।

দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে গেছে আবদুর রহিমের। তবু টিকা নিতে এসেছেন তিনি। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ে টিকা নেওয়ার পর বলেন, প্রথমে টিকা নেওয়ার সময়ই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল মোট ৩টা ডোজ দেবে। তৃতীয়টা এখানেই দেবে। তাই আগে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।