শ্যামলীর ৪ নম্বর সড়কসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকায় ঢাকা ওয়াসা থেকে সরবরাহ করা পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁরা বলছেন, দেড়-দুই মাস ধরে পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ—দুটির মাত্রাই প্রকট হয়েছে। এই পানি ফুটিয়ে পান করারও উপায় থাকে না। কারণ, পানি ফোটালেই তাতে ফেনা তৈরি হয়। স্থানীয় পাম্পে এ বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার হচ্ছে না।
ওয়াসার স্থানীয় কর্মকর্তা–কর্মচারীদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত তাঁরা বাসিন্দাদের কাছ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাননি। তবে সায়েদাবাদের পানি শোধনাগারের একটি লাইন শ্যামলীতে এসে মিশেছে। সেখান থেকে নোংরা-দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসতে পারে বলে শঙ্কা তাঁদের।
গতকাল সোমবার কথা হয় শ্যামলী ৪ নম্বর সড়কের একটি বহুতল ভবনের মালিক শাহানা ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে যে পরিমাণ ময়লা ও দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এই পানি পান করার প্রশ্নই ওঠে না। এই পানি দিয়ে গোসল করতেও রুচি হয় না।
ওই ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. রিপন একটি বোতলে ভরা ওয়াসার লাইনের কিছু পানি দেখান। বোতলের নিচের অংশে জমেছে ময়লার স্তর। ছিপি খুলতেই নাকে আসে দুর্গন্ধ।
একই রকম অভিযোগ করেন ওই সড়কের আরেকটি বহুতল ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মোফাজ্জেল হোসেন। তিনি বলেন, এখন পানি পাওয়া যাচ্ছে, তবে এই পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনের ৩২টি ফ্ল্যাটে প্রায় দেড় শ মানুষের বাস। পানি নিয়ে তাঁরা প্রচণ্ড দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
শ্যামলীর ২ নম্বর সড়কের বাসিন্দা তৌহিদুর রহমান জানান, তিনিসহ এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধের বিষয়টি একাধিকবার ওয়াসার ৩ নম্বর মডস জোনের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি বলেন, ‘অভিযোগ জানানোর পর ওয়াসা থেকে লোক পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা এসে কী ঠিক করল জানি না। বাসার পানি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে অস্বস্তি হওয়ায় গতকালও আদাবর থেকে আমাকে ড্রামে করে পানি আনতে হয়েছে।’
শ্যামলী ৩ নম্বর সড়কের বারাবো পানির পাম্প থেকে আশপাশের এলাকায় পানি সরবরাহ করা হয়ে। গতকাল দুপুরে কথা হয় পাম্প অপারেটর নজরুল ইসলামের সঙ্গে। বাসিন্দাদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাম্প থেকে সরবরাহ করা পানিতে কোনো সমস্যা নেই এটা নিশ্চিত। কিন্তু সায়েদাবাদের একটি লাইন ৪ নম্বর সড়কে ঢুকেছে। ওই পানিতে সমস্যা থাকতে পারে।
৩ নম্বর মডস জোনের উপসহকারী প্রকৌশলী আল মামুন বলেন, বাসিন্দাদের কাছ থেকে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের অভিযোগ পাননি। তিনি বলেন, ওই এলাকার বেশির ভাগ পানি আসে সায়েদাবাদ শোধনাগার থেকে। পানির পাম্প ও শোধনাগারের লাইন মিলে গেছে। সেখান থেকে বাসাবাড়িতে পানি সরবরাহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে শোধনাগারের পানিতে গন্ধ কিংবা ময়লা থাকলে তাঁদের কিছু করার থাকে না। কারণ, সায়েদাবাদ শোধনাগারের পানির উৎস শীতলক্ষ্যা নদী। শুকনো মৌসুমে শীতলক্ষ্যার পানির দূষণ বেড়ে যায়। তাই পানি বিশুদ্ধ করার জন্য ওষুধও বেশি দিতে হয়। এ জন্য দুর্গন্ধ বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার কাজ ও অবৈধ সংযোগের কারণে সরবরাহ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন এই প্রকৌশলী। তিনি বলেন, তাই ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।