চা–শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘটে ঢাবি ছাত্রলীগের সংহতি

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা–শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘটে ঢাবি ছাত্রলীগের সংহতি। ১৬ আগস্ট, রাজু ভাস্কর্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি: প্রথম আলো

দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা-শ্রমিকদের চলমান ধর্মঘট কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। চা–শ্রমিকদের বর্তমান মজুরিকে (১২০ টাকা) একবিংশ শতাব্দীর ‘সবচেয়ে অবৈজ্ঞানিক, অনৈতিক ও অযৌক্তিক জুলুম ও নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সনজিত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সনজিত চন্দ্র দাস ও সাদ্দাম হোসেন চা–শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানান। ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন করছেন চা–শ্রমিকেরা।

কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের যৌক্তিক আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিজের ছাত্রত্ব খুইয়েছিলেন, তবু আপস করেননি৷ বর্তমান বাংলাদেশ শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ। সেখানে সিলেটের তথাকথিত কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি যাঁরা চা–বাগানগুলোর মালিক, তাঁরা চা–শ্রমিকদের সঙ্গে প্রভুর মতো সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। ওই মালিকদের ধিক্কার জানাই। আজকে যেখানে ডিমের হালি ৫৮ টাকা, সেখানে ১২০ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়ে একজন চা–শ্রমিকের পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন?

সনজিত আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিদিনই চা পান করি। কিন্তু যাঁরা আমাদের জন্য চা–পাতাগুলো তোলেন, তাঁদের ২৪ কেজি পাতা তোলার জন্য দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা মজুরি দেওয়া হয়। একবিংশ শতাব্দীতে এটি সবচেয়ে অবৈজ্ঞানিক, অনৈতিক ও অযৌক্তিক জুলুম ও নিপীড়নমূলক সিদ্ধান্ত।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সাবেক এজিএস সাদ্দাম হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চা–শ্রমিকেরা অবস্থান ধর্মঘটসহ আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো দাবি আদায়ে দর-কষাকষি ও আলাপ-আলোচনা করছে। কিন্তু এখনো সমাধান বা সুরাহার কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না। ন্যায্যতা ও সমতার জন্য আন্দোলনরত চা–শ্রমিকদের আমরা সশ্রদ্ধ অভিবাদন জানাই। ১২০ টাকা দৈনিক মজুরি দিয়ে একজন চা–শ্রমিকের পক্ষে ন্যূনতম মৌলিক জীবনযাপন নিশ্চিতের কোনো সুযোগ নেই। সে জন্য ৩০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবির সঙ্গে আমরা সংহতি জানাই। চা–বাগানের মালিকদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, শ্রমিকদের এই দাবি আপনারা অবিলম্বে মেনে নেবেন।

সাদ্দাম আরও বলেন, ‘বর্তমানে যখন আন্তর্জাতিক বাস্তবতার কারণে দ্রব্যমূল্যের অনেক ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। সেই সময়ে শ্রম আইন বা মজুরি বোর্ডের নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে চা–শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু আজকে সেটি মাত্র ১৪ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হচ্ছে। এটি চা–শ্রমিকদের সঙ্গে একটি প্রহসন বলে আমরা মনে করি। শেখ হাসিনার সরকার কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের সরকার। ন্যায্য মজুরি আদায় করে চা–শ্রমিকেরা যেন ন্যূনতম মানসম্পন্ন জীবন যাপন করতে পারেন, তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানাচ্ছেন।’

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজল দাস ও সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মণ বক্তব্য দেন।