ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় একটি ভবনের নিচতলায় মশার প্রজননস্থল খুঁজছেন সিটি করপোরেশনের কর্মী ও স্কাউট সদস্যরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় একটি ভবনের নিচতলায় মশার প্রজননস্থল খুঁজছেন সিটি করপোরেশনের কর্মী ও স্কাউট সদস্যরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অভিযান

পার্কিংয়ে মশার লার্ভা পাওয়ায় রাপা প্লাজাকে জরিমানা, ডিএসসিসির কর্মী বরখাস্ত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের প্রথম দিনেই রাজধানীর ধানমন্ডির রাপা প্লাজার ভূগর্ভস্থ পার্কিংয়ে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ ঘটনায় রাপা প্লাজা কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে ডিএসসিসির এক কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) স্থাপিত ডেঙ্গু প্রতিরোধের স্টল পরিদর্শন করেন। সেখানে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরী ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও ব্যবহৃত উপকরণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

উদ্বোধনের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একযোগে বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে দুই সিটি করপোরেশন।

দক্ষিণ সিটির অভিযানের অংশ হিসেবে ধানমন্ডির রাপা প্লাজার গ্রাউন্ড পার্কিং জোন পরিদর্শনে যায় ডিএসসিসির একটি দল। সেখানে লার্ভা পাওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় ডিএসসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়ার্ড-১৫, অঞ্চল-১–এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সুশীল চন্দ্র রবিদাসকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিএসসিসির কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের ক্ষেত্রে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী—যাঁরই অবহেলা পাওয়া যাবে, তাঁর বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ ও উৎস নির্মূলের লক্ষ্যে শনিবার রাজধানীর একটি রাস্তায় বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন ডিএসসিসির কর্মীরা। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাঠে ডিএনসিসির দেড় হাজার কর্মী

জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটিও তাদের আওতাধীন ৫৪টি ওয়ার্ডে দিনব্যাপী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগের নেতৃত্বে ২৪টি দলে ভাগ হয়ে প্রায় দেড় হাজার কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক এতে অংশ নেন। মশক সুপারভাইজার ও কর্মীদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং স্কাউট সদস্যরাও এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বিমানবন্দর এলাকা, মণিপুরিপাড়া, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, ইকবাল রোড, হুমায়ুন রোড, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হয়। এ সময় বিমানবন্দর এলাকার একটি দোকানে এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই কার্যক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সোর্স রিডাকশন, লার্ভিসাইডিং, ছাদবাগান পরিদর্শন, মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং নোভালিউরন ট্যাবলেট প্রয়োগ করা হয়।

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিদিন ১০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী মাঠে কাজ করবেন এবং তাঁরা অ্যাপভিত্তিক রিপোর্টিং করবেন। ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। এরপর দুই সপ্তাহ পরপর নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে এ কার্যক্রম চলবে।

নতুন এ কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য হলো—‘১০০ জন, ১০০ দিন, ১০০ হটস্পট’। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ১০০ জন প্রশিক্ষিত কর্মী ১০০ দিনে ১০০টি নির্দিষ্ট হটস্পটের ১০০ শতাংশ প্রজননস্থল অপসারণ অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করবেন। আগে হটস্পট বলতে পুরো ওয়ার্ডকে বিবেচনা করা হতো, যেখানে প্রায় আট হাজার হোল্ডিং থাকে। এবার নির্দিষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে কাজ করা হচ্ছে। এই ১০০ জনের দলে বিডি ক্লিন, মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং এলআইইউপিসির সদস্যরাও থাকবেন।

ডিএনসিসি জানিয়েছে, এবারের কর্মসূচিতে শুধু পূর্ণাঙ্গ মশা নিধন নয়; বরং প্রজননস্থল শনাক্ত, উৎস ধ্বংস ও জমে থাকা পানি অপসারণের মাধ্যমে ‘সোর্স রিডাকশন’ বা উৎস নির্মূলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।