রাজধানীর পল্টন এলাকায় গিয়ে মেহেদী আর তার মা মুক্তার সঙ্গে দেখা করেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর
রাজধানীর পল্টন এলাকায় গিয়ে মেহেদী আর তার মা মুক্তার সঙ্গে দেখা করেন সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর

প্রথম আলোয় খবর প্রকাশ

দড়ির বাঁধন থেকে মুক্তি পেল শিশুটি, দায়িত্ব নিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর

রাজধানীর পল্টনে ফুটপাতে থাকা আড়াই বছরের শিশু মেহেদী আর তার মায়ের দায়িত্ব নিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর। শিশুটিকে ফুটপাতে লোহার রেলিংয়ে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে কাজে যেতেন মা। তাকে দেখার কেউ ছিল না। শিশুটি যাতে হারিয়ে না যায় সে জন্যই এই পথ বেছে নিয়েছিলেন নিরুপায় মা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর পল্টন এলাকায় গিয়ে মেহেদী আর তার মা মুক্তার সঙ্গে দেখা করেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। এ সময় তিনি মেহেদী আর তা মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন।

আমি বাচ্চাটির শিক্ষার দায়িত্ব নিলাম। মোহনগঞ্জে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে।
লুৎফুজ্জামান বাবর, নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

গতকাল বুধবার রাতে প্রথম আলোর অনলাইনে ‘কোনো মানবশিশু কি এভাবে বেড়ে উঠতে পারে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাজধানীর পল্টন মোড় এলাকার ফুটপাতে মায়ের সঙ্গে থাকা শিশু মেহেদীর শিকলবন্দী জীবনের কথা উঠে আসে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়ার পর তা লুৎফুজ্জামান বাবরের দৃষ্টিগোচর হয়। রাতেই তিনি সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগীদের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।

এ বিষয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল রাতেই প্রতিবেদনটি আমার চোখে পড়ে। তখনই আমার লোকজন দিয়ে খোঁজ নিই। যেহেতু তারা আমার থানার মানুষ, তাই দায়িত্বও আমার। আমি বাচ্চাটির শিক্ষার দায়িত্ব নিলাম। মোহনগঞ্জে তাদের থাকার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে।’

শিশু মেহেদীকে নিয়ে প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জের বাসিন্দা মুক্তার দ্বিতীয় সংসারের সন্তান মেহেদী। শিশুটির জন্মের আগে ওর বাবা মুক্তাকে ফেলে চলে যান। এর পর থেকে পল্টন এলাকার ফুটপাতে দিন কাটছিল মা-ছেলের। মা প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে যাওয়ার সময় শিশু মেহেদীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে যেতেন। যাতে সে কোথাও চলে না যেতে পারে। হামাগুড়ি দিয়ে এগোনোর সময় বারবার দড়িতে বাধা পেয়ে কেঁদে উঠত শিশুটি।

সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে দেখভালের প্রতিশ্রুতি পেয়ে খুশি মেহেদীর মা মুক্তা। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মোহনগঞ্জে থাকমু। পোলারে মাদ্রাসায় পড়ামু। অয় আমার মতো ভিক্ষা করব না।’