শিশু–কিশোর উৎসবে মুখর সফিউদ্দীন শিল্পালয়

সফিউদ্দীন আহমেদ
সফিউদ্দীন আহমেদ

শিশু-কিশোরদের নিয়ে আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের ১০৪তম জন্মবার্ষিকীর আট দিনব্যাপী আয়োজন শুরু হয়েছে গতকাল বুধবার। বেলা ১১টায় ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয় এই উৎসবের আয়োজন করে।

দেশের আধুনিক চিত্রকলার চর্চা, বিশেষ করে ছাপচিত্রের পথিকৃৎ শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের জন্ম ১৯২২ সালের ২৩ জুন। তিনি কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফটস থেকে এচিং ও এনগ্রেভিং বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশভাগের পর ১৯৪৭ সালে ঢাকায় এসে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও অন্য পথিকৃৎ শিল্পীদের সঙ্গে ঢাকা আর্ট কলেজ গঠনে ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে এটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। সফিউদ্দীন আহমেদের হাত ধরেই দেশে ছাপচিত্রকলার বিকাশ ঘটেছে বলে বিদগ্ধজনেরা মনে করেন। ২০১২ সালের ২০ মে তিনি ইন্তেকাল করেন।

শিল্পগুরুর জন্মদিন উপলক্ষে ২০২১ সাল থেকে সফিউদ্দীন শিল্পালয় শিশু-কিশোরদের নিয়ে উৎসবের আয়োজন করে আসেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও শিশু-কিশোরদের নিয়ে শিল্পকলা প্রদর্শনী ও কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এবার উৎসবে দুটি প্রতিষ্ঠান—ধানমন্ডির মারী-কুরী স্কুল ও মিরপুরের বেইট আলফা অটিস্টিক ফাউন্ডেশনের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন অর্ধশতাধিক শিশু-কিশোর অংশ নিচ্ছে।

বরেণ্য শিল্পী রফিকুন নবী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিশুরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোক’ ও ‘আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে’ গানের পাশাপাশি সমবেত নৃত্য ও সম্মেলক কণ্ঠে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘জয় হোক শান্তির’ গানটি পরিবেশন করে।

শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শিশুদের এই উৎসব এবং তাদের নিয়ে কর্মশালা ও প্রদর্শনী শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশে সহায়ক হবে।

বেইট আলফার প্রায় ৩০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু অংশ নেয় উৎসবে। তাদের সঙ্গে ছিলেন অভিভাবকেরা। মিরপুর থেকে সাফিয়া ইসলাম এসেছে তার মা তারা বেগম ও ফারিয়া ইসলাম এসেছে তার মা পারভিন আক্তারের সঙ্গে। তারা দুজনেই খুব আনন্দিত।

সফিউদ্দীন আহমেদের ছেলে ও এই শিল্পালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শিল্পী আহমেদ নাজির বললেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্পানুরাগ সৃষ্টি ও তাঁদের সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহ দিতেই তাঁরা এই উৎসবের আয়োজন করছেন। এই উৎসব শিশু কিশোরদের ছবি আঁকা, ছাপচিত্র তৈরি, কাগজ কেটে মুখোশ তৈরি ও মৃৎশিল্প তৈরি হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রয়েছে তাদের কাজের প্রদর্শনী। অংশগ্রহণকারীদের জন্য কর্মশালাটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পরিচালিত হচ্ছে। ২৩ জুন শিল্পগুরুর জন্মদিনের বিকেলে শিশু-কিশোরদের নিয়ে কেক কাটা হবে। সঙ্গে থাকবে তাদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসবের কার্যক্রম হিসেবে প্রদর্শনী ও কর্মশালা প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে ২৪ জুন পর্যন্ত।