
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও অ্যাসোসিয়েশন অব কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটিজের (এসিইউ) উচ্চপর্যায়ের দুটি প্রতিনিধিদল। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার দুপুরে ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন মাহদী আমিন। এতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিশেষ করে নিরাপদ অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হয়। ইউরোপে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে ইইউ প্রতিনিধিদল। পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং এ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
মাহদী আমিন আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার সরকারি উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসী কর্মীদের উন্নত সেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে ‘এক্সপ্যাট্রিয়েট কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় সরকার কাজ করছে।
বৈঠকে উভয় পক্ষ অভিবাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। ইইউ প্রতিনিধিদলে ছিলেন হেনরিক নিয়েলসেন, আলেকসান্দ্রা ডোমানস্কা, বাইবা জারিনা ও জুরাতে স্মালস্কিতে মেরভিল।
একই দিন উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসিইউ প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে ছিলেন এসিইউর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক কলিন রিওর্ডান, দক্ষিণ এশিয়ায় এসিইউর রিজিওনাল এনগেজমেন্ট লিড ইকিতা পোখরনা, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফেরহাত আনোয়ার, রেজিস্ট্রার ডেভিড ডাওল্যান্ড, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহান হক ও ডেপুটি ডিরেক্টর (গভর্নমেন্ট লিয়াজোঁ) মো. মশিয়ার রহমান।
সাক্ষাতে দেশে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা বিস্তার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় মাহদী আমিন দেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে বিএনপি সরকারের নীতি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষাভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলবে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণে ভূমিকা রাখবে।
এসিইউ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতের উন্নয়ন ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করে। তারা কমনওয়েলথভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।