ট্রাক্টর নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান শিক্ষার্থীরা
ট্রাক্টর নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে যান শিক্ষার্থীরা

ট্রাক্টর নিয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শেকৃবি শিক্ষার্থীরা, অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর

রাজধানীর পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার্থীরা।

শেরেবাংলা নগরের এই মাঠে এশিয়া আন্তর্জাতিক মেলার জন্য অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। এ ছাড়া কোনো ধরনের মেলার কার্যক্রমও মাঠে পরিচালনা করা যাবে না। মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে দিতে হবে।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে ট্রাক্টর

আজ ‎সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শেকৃবির ক্যাম্পাস থেকে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর একটি দল দুটি ট্রাক্টর নিয়ে বেরিয়ে আসে। এরপর শিক্ষার্থীরা ‘আমলা–সচিব বাইরে যাক, আমার ক্যাম্পাস আমার থাক’, ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’ প্রভৃতি স্লোগান দিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাঠে ঢুকে শিক্ষার্থীরা মেলার জন্য নির্মিত অস্থায়ী স্থাপনায় ভাঙচুর শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর চলে। বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের দিকে ফিরে যান।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে শিক্ষার্থীরা

অন্যদিকে মাঠের কাছের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের সামনে সকাল থেকে অবস্থান করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। তবে ভাঙচুরের সময় শিক্ষার্থীদের কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

‎আন্দোলনরত শেকৃবির কৃষি অনুষদের (অ্যাগ্রিকালচারাল ফ্যাকাল্টি) শিক্ষার্থী মাইশা আফরোজ প্রথম আলোকে বলেন, এলাকাটি শহরের একটি প্রধান কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। এর ঠিক পাশেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট, কিডনি হাসপাতাল ও নিউরোসার্জারি হাসপাতাল রয়েছে। এখানে সচিবালয় স্থানান্তর করা হলে কিংবা মেলার কার্যক্রম চললে কৃষি গবেষণার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। ফার্মগেট ও বিজয় সরণি–সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়ে রোগীদের যাতায়াত ব্যাহত হবে। সার্বিক পরিবেশ বিনষ্ট হবে।

‎মেলার স্থাপনা ভাঙচুরের বিষয় জানতে চাইলে মাইশা বলেন, ‘আমরা লিখিতভাবে চিঠি দিয়ে মেলার কাজ বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম। তিন দিনের আলটিমেটাম দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা না শুনে নতুন করে স্টল বসিয়ে মেলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়েই আমরা সরাসরি মাঠে এসে অবস্থান নিয়েছি, যেন মেলা বন্ধ হয়, আমাদের গবেষণার মাঠ আমাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’

কৃষি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিব তালুকদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা বিশ্ব যখন রাজধানী বিকেন্দ্রীকরণ করছে, তখন বাংলাদেশের আমলারা ঢাকার ভেতরেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সচিবালয় সরিয়ে নিতে চাইছেন। তাঁরা ঢাকাকে আরও বসবাসের অযোগ্য করে তুলছেন।

পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠের অস্থায়ী স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়

সচিবালয় স্থানান্তর হলে ‎গুলিস্থানের যানজট বিজয় সরণিতে নিয়ে আসা হবে বলে মন্তব্য করেন এই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, এমনিতেই বিজয় সরণিতে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সিগন্যালে বসে থাকতে হয়। সচিবালয় এদিকে এলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করবে। তা ছাড়া এই এলাকায় থাকা হাসপাতালগুলোর রোগীদের যাতায়াত পুরোপুরি থমকে যাবে। নির্মাণকাজের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারটি ধ্বংস হয়ে যাবে। পরিবেশ নষ্ট করে সচিবালয় করা কোনো সচেতন নাগরিক সমর্থন করতে পারে না।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাঠটিতে সচিবালয় স্থাপন করতে দেওয়া হবে না

গত ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়। ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় সচিবালয়ের কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে শেকৃবির শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন।