মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেন মোটরসাইকেলচালকেরা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ঢাকা। ২২ মে ২০২৬
মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেন মোটরসাইকেলচালকেরা। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, ঢাকা। ২২ মে ২০২৬

প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের

মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা। আজ শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের উল্টো পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা এ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাঁরা কর দেওয়ার বিরোধিতা করছেন না; বরং কর আরোপের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত, বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন নীতি প্রণয়নের দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের মতে, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতিমধ্যে আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, নিবন্ধন ফি, সড়ক কর, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের কোষাগারে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব দিচ্ছেন। এরপরও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ সাধারণ বাইকারদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

ন্যাশনাল বাইকার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা রায়হান উদ্দীন খান বলেন, একই হারে কর আরোপের ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ পড়বে। একজন শিক্ষার্থী বা স্বল্প আয়ের ব্যক্তি বহু বছর সঞ্চয় করে একটি সাধারণ মোটরসাইকেল কিনলে তাঁকেও একই ধরনের করের আওতায় আনা হবে, যা বৈষম্যমূলক। তিনি মোটরসাইকেলের মূল্য, ইঞ্জিনক্ষমতা (সিসি) এবং ব্যবহারকারীর আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে করকাঠামো নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

রায়হান উদ্দীন আরও বলেন, পাঁচ লাখ টাকার বেশি মূল্যের বা বিলাসী ব্যবহারের আওতায় থাকা মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি সরকার যদি অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে চায়, তাহলে সড়ক নিরাপত্তা, নিরাপদ অবকাঠামো এবং মোটরসাইকেলচালকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ভেসপা কমিউনিটির প্রতিষ্ঠাতা দিদারুল ইসলাম সুজন বলেন, বাইকাররা কখনোই কর দিতে আপত্তি করেন না এবং দেশের রাজস্ব বৃদ্ধির অংশীদার হতে চান। তবে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের মতামত না নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। তিনি বলেন, বৈধ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা, জরিমানা ও বিধিনিষেধের মুখোমুখি হন। অথচ সড়কে চলাচলকারী অনেক অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না।

সরকারের উদ্দেশে দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংঘাত চাই না, সমাধান চাই। দেশের লাখো বাইকারের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আলোচনার সুযোগ চাই। একটি উন্মুক্ত মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলে আমরা আমাদের সমস্যা ও প্রস্তাব সরাসরি তুলে ধরতে পারব।’

দেশি বাইকার ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান সোহান বলেন, বাংলাদেশে মোটরসাইকেল কিনতে ক্রেতাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি মূল্য পরিশোধ করতে হয়। আমদানি শুল্ক, উৎপাদন কর, ভ্যাট-ট্যাক্স, নিবন্ধন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের কর ও চার্জ বিদ্যমান থাকার পরও নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের উদ্যোগকে তিনি অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেন।

দেওয়ান সোহান আরও বলেন, দেশের অধিকাংশ বাইকার মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য। কর্মজীবন, ব্যবসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনেই তাঁরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। তাই তাঁদের ওপর নতুন করে করের বোঝা না চাপিয়ে সরকারের উচিত বাইকারদের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত সমাধানে পৌঁছানো উচিত। বাইকারদের স্বার্থ, আর্থিক সক্ষমতা এবং দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করেই যেকোনো নতুন করনীতি প্রণয়নের দাবি জানান তাঁরা।