
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সময় তোলা আলোকচিত্র নিয়ে রাজধানীতে শুরু হয়েছে আলোকচিত্রী সাবরিনা ইসলামের আলোকচিত্র প্রদর্শনী। ‘হরাইজনস উইদাউট বর্ডারস: ল্যান্ডস্কেপস অব ডিসট্যান্স, লাইট অ্যান্ড মেমোরি’ শীর্ষক এ প্রদর্শনীতে ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের নানা দৃশ্য স্থান পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বৈচিত্র্যময় ভূদৃশ্য ও সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে তোলা নির্বাচিত আলোকচিত্রও রয়েছে প্রদর্শনীতে।
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের বেই’স এজওয়াটারের এজ গ্যালারিতে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ফটোগ্রাফি এমন একটি মাধ্যম, যার মধ্য দিয়ে যেকোনো সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুদৃঢ় একটি বন্ধন তৈরি হয়। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের পাশাপাশি ছবির মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখার যে প্রচেষ্টা সাবরিনা ইসলাম করেছেন, তার প্রশংসা করেন তিনি।
সাবরিনা ইসলামের তৃতীয় একক এ প্রদর্শনীতে মোট ১১০টি আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, পতুর্গাল, নামিবিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, মঙ্গোলিয়া, মাদাগাস্কার, চিলি, আর্জেন্টিনা, কেনিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থান–স্থাপনাসহ নানা চিত্র উঠে এসেছে।
আলোকচিত্রী সাবরিনা ইসলাম পেশাজীবনের শুরুতে তৈরি পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফটোগ্রাফির পাশাপাশি ‘রিফ্লেকশনস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে কাচের ওপর নকশা, খোদাই ও অলংকারধর্মী শিল্পকর্ম নিয়ে কাজ করে।
প্রদর্শনী নিয়ে সাবরিনা ইসলাম বলেন, ‘পৃথিবীর সব সৌন্দর্য আমরা যেন উপভোগ করতে পারি, সে বার্তাটিই এ প্রদর্শনী থেকে আমি দিতে চেয়েছি।’
প্রদর্শনীর পাশাপাশি সাবরিনা ইসলাম তাঁর বই ‘দ্য টার্টার পাইপ’ প্রকাশ করেছেন। এ বইয়ে মঙ্গোলিয়ায় তাঁর তোলা কিছু আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে। তুলে ধরা হয়েছে দেশটির বিস্তৃত ভূদৃশ্য, যাযাবর জীবনধারা এবং অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, নারী অধিকারকর্মী ও নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা শিরিন পারভীন হক, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ইউপিএলের পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন, স্থপতি রফিক আজম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফিরদৌস আজিমসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী আগামীকাল শনিবার রাত আটটা পর্যন্ত চলবে।