লাশ
লাশ

লালবাগে ব্যবসায়ীকে মারধরের পর মৃত্যু, আটক ২

রাজধানীর লালবাগে মারধরের পর এক ব্যবসায়ী মারা গেছেন। পুলিশ ও পরিবার বলছে, সময়মতো বাসাভাড়া পরিশোধ না করাকে কেন্দ্র করে তাঁকে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. স্বপন (৬২)। আজ সোমবার ভোর চারটার দিকে লালবাগের আজিমপুর গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

স্বপনের বাড়ি মাদারীপুর জেলার শিবচর থানার তাহের ফকির কান্দি গ্রামে। তিনি আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। বিভিন্ন দোকানে প্রসাধনসামগ্রী সরবরাহের ব্যবসা করতেন।

আহত স্বপনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর মরদেহ মর্গে রাখা হয়।

নিহত স্বপনের বড় ভাই রাজা মো. সেলিম বলেন, তাঁরা দুই ভাই আজিমপুর মেডিক্যাল স্টাফ কোয়ার্টারের নিচতলার একটি ঘরে মাসিক ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় থাকতেন। গত মাসের ভাড়ার মধ্যে এক হাজার টাকা বকেয়া ছিল। ১২ তারিখে সেই টাকা পরিশোধ করা হয়। রাতে বাড়িওয়ালা রিজভীকে টাকা নেওয়ার জন্য ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রাজা মো. সেলিমের ভাষ্য, পরদিন রাত সোয়া তিনটার দিকে রিজভী টাকা চেয়ে ফোন দেন। পরে তিনি বাসায় এসে জোরে দরজায় আঘাত করেন। দরজা খোলার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, এখন টাকা দেবেন না, কমিটির কাছে বিচার দিয়ে পরে টাকা দেবেন। রিজভী তাঁদের গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

ছোট ভাই স্বপন প্রতিবাদ করলে রিজভী ও তাঁর সহযোগী চাচাতো ভাই রোহান জোর করে স্বপনকে স্টাফ কোয়ার্টারের সামনের মাঠে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে এলোপাতাড়ি লাথি এবং বুকে উপর্যুপরি কিল-ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে স্বপনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন , এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মূল অভিযুক্ত রিজভী ও তাঁর চাচাতো ভাই রোহানকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা প্রক্রিয়াধীন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহ কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে।