প্রবেশমুখে নামকাওয়াস্তে একটি নোটিশ টাঙানো কেবল
প্রবেশমুখে নামকাওয়াস্তে একটি নোটিশ টাঙানো কেবল

পরীবাগের পদচারী–সেতু

‘মৃত্যুফাঁদ’ মেরামতের উদ্যোগ নেই

রাজধানীর শাহবাগ–বাংলামোটর সড়কের পরীবাগ পদচারী–সেতুতে টাঙানো সতর্কবার্তা, ‘ব্রিজটি ভাঙা, মৃত্যুফাঁদ, উঠবেন না’। সিঁড়ির প্রবেশপথ তার দিয়ে আটকানো। তবু ঝুঁকি নিয়েই সেটি ব্যবহার করছেন অনেক পথচারী। রাস্তা পারাপারে নিরাপদ আর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কেউ ভাঙা সিঁড়ি টপকে পদচারী–সেতুতে উঠছেন, কেউবা ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক পার হচ্ছেন।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সেতুটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। দ্রুত এটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও পথচারীরা।

গত মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, পদচারী–সেতুটির দুই পাশের সিঁড়ির মুখে ফেস্টুন টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে লেখা, ‘ব্রিজটি ভাঙা, মৃত্যুফাঁদ। উঠবেন না।’ ডিশের তার দিয়ে প্রবেশপথ আটকে দেওয়া হলেও অনেকেই সেটি টপকে ওপরে উঠছেন, নামছেন। ব্রিজের ওপর গিয়ে দেখা যায়, এক পাশের সিঁড়ির কয়েকটি ধাপ নেই। অন্য পাশের ধাপগুলোও নড়বড়ে—যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। সামান্য অসতর্কতায় নিচে পড়ে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। আবার ব্রিজের ওপর কয়েকজনকে মাদক সেবন করতেও দেখা গেল। ছবি তুলতে গেলে বাধা দেন মাদকসেবীদের কয়েকজন।

এ ছাড়া কয়েক মাস ধরে এই পদচারী–সেতুর ওপর রাতে অসামাজিক কার্যকলাপও হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন। সেতুটিতে আলো নেই। রাত গভীর হলে একদল লোক ভিড় জমান সেখানে।

বাংলামোটরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ হিসেবে কাজ করেন আশফিয়া রহমান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এক সহকর্মীকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পদচারী–সেতুটি দিয়ে পার হন তিনি। আশফিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত বাংলামোটর মোড়েই নামেন; কিন্তু যানজটের কারণে দেরি হয়ে যাচ্ছে ভেবে সেতুতে উঠে রাস্তা পার হওয়ার কথা ভাবেন। ওপরে উঠে ভাঙা অংশ দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

আশফিয়া বলেন, ‘সবচেয়ে বাজে জিনিস যেটা দেখলাম, এখানে বসে মানুষ ড্রাগস (মাদক) নিচ্ছে। ভীষণ ভয় লেগেছিল।’ তিনি আরও বলেন, সাধারণ একটা টিঅ্যান্ডটি কিংবা ডিশের তার বেঁধে দিয়ে বলে দিতে পারে না যে এটি ব্যবহার করা যাবে না। যদি ব্রিজ বন্ধ করে, তাহলে যাতে এমনভাবে বন্ধ করে, সেখান দিয়ে আর কেউ যেতে না পারে।

রাজধানীর কচুক্ষেত থেকে পরীবাগে এসে প্রতিদিন অফিস করেন সালাহউদ্দিন কাজল। সেতু ব্যবহার না করে তিনি ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তিনি বলেন, পদচারী-সেতুটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। একরকম বন্ধ থাকায় ব্রিজে মানুষের যাতায়াত নেই। ফলে দিনে মাদকসেবীরা এখানে মাদক সেবন করেন। আর সন্ধ্যা হলে অবৈধ কর্মকাণ্ড হয়। পদচারী–সেতুটি সংস্কার করে দ্রুত চালু করার দাবি জানান তিনি।

বাংলামোটর থেকে শাহবাগ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সারাক্ষণ দ্রুতবেগে গাড়ি চলতে থাকে। পদচারী–সেতুটির স্থানে রাস্তা বেশ চওড়া। পথচারী অনেকে চাইলেও সহজে রাস্তা পার হতে পারেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে সেতুটিতে ওঠেন।

রাজধানীতে একটি আইটি ফার্মে কাজ করেন খুরশেদ আলম। ব্যস্ততম সড়কের চেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে পার হওয়া কম ঝুঁকির মনে করছিলেন তিনি। খুরশেদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওপরে উঠার পর মনে হচ্ছিল, নেমে আবার নিচ দিয়ে রাস্তা পার হই। কিন্তু সেটার তো আর উপায় নেই। মানে, এত ভয়ংকর একটা জিনিস।’

জানতে চাইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রাজিব খাদেম বলেন, ‘আমরা দেখছি। এটার এখন টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। নতুন করে টেন্ডার করতে গেলে তো একটু সময় লাগে। একসঙ্গে পাঁচ–ছয়টি ফুটওভারের কাজের টেন্ডার তো। তাই একটু সময় লাগছে, আর কিছু নয়।’

দীর্ঘ কয়েক মাস পদচারী-সেতুটির এমন বেহাল নিয়ে কেন সিটি করপোরেশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, এমন প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা জানান, সেতুটি মেরামতের জন্য দরপত্র চূড়ান্ত হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু হতে পারে বলেও জানান এই প্রকৌশলী।