জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় অটোরিকশা থেকে পড়ে প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভিনের (৫৬) মারা যাওয়ার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে র্যাব-২।
র্যাব বলেছে, গ্রেপ্তার মূল সন্দেভাজনের নাম পনি ওরফে প্যারা পনির। তাঁর সহযোগীর নাম জানানো হয়নি। আজ রোববার বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বছিলায় র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
র্যাব-২–এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) নয়মুল হাসান ব্রিফিং করবেন।
রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখাতে গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বগুড়া থেকে বাসে করে ঢাকায় আসেন রনজিলা পারভিন ও তাঁর স্বামী আবদুল মতিন। ভোরে কল্যাণপুর টার্মিনালে বাস থেকে নেমে তাঁরা অটোরিকশায় করে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনের সড়কে আসতেই একটি মোটরসাইকেলে করে এসে পেছন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেয় ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় রনজিলা পারভিন অটোরিকশা থেকে নিচে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। সঙ্গে থাকা স্বামী তাঁকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় তাঁর স্বামী আবদুল মতিন বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
রনজিলা পারভিন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার তরফসরতাজ গ্রামে। তাঁর স্বামী আবদুল মতিন বগুড়া শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পোশাকের ব্যবসা করেন। ইয়াকুবিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে তাকিয়া আকতার রাইসা।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ছয় মাসে রাজধানীতে ১৭২টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা হয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪০২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে ওয়ারী থানা এলাকায়। আর ৩৪টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে তেজগাঁও বিভাগের বিভিন্ন এলাকায়।
প্রসঙ্গত, ছিনতাইয়ের সব ঘটনায় মামলা হয় না। বেশির ভাগ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। আবার ছোটখাটো ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা জিডিও করেন না।