রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সবজি কিনছেন এক ক্রেতা
রাজধানীর কারওয়ানবাজারে সবজি কিনছেন এক ক্রেতা

পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে চালের, কমছে শীতের সবজির

পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ৫০ কেজির বস্তায় ২৫ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে চালের দাম। তবে আপাতত এর প্রভাব পড়েনি খুচরা বাজারে। আগের দামেই প্রতি কেজি চাল বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলছেন, পাইকারিতে দাম আরও বাড়লে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

অন্যদিকে বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে থাকায় কমছে দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় টমেটো বাদে প্রায় সব ধরনের শীতকালীন সবজির দাম কেজি কিংবা প্রতিটিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে ফার্মের ডিম ও মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-৬, মিরপুর-১১ ও কারওয়ান বাজারের চালের আড়ত ও খুচরা দোকানে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাজারে তুলনামূলক মোটা গুটিস্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, মাঝারি আকারের বিআর-২৮ চাল ৫৫ থেকে ৫৬ টাকা এবং চিকন মিনিকেট চাল ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নাজিরশাইল চালের কেজি ৮০ টাকা।

মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচাবাজারের চাল বিক্রেতা আমির হোসেন বলেন, এক সপ্তাহ আগে ৫০ কেজির এক বস্তা বিআর-২৮ চালের পাইকারি দাম মানভেদে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা ছিল। এখন বস্তাপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তবে বস্তাপ্রতি দাম অন্তত ৫০ টাকা বাড়লে খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়ে।

কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের চাল বিক্রেতা সোলায়মান মিয়া বলেন, গত সপ্তাহে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চালের দাম ছিল ৩ হাজার ৫৫০ টাকা। গত বুধবার তা কিনেছেন ৩ হাজার ৫৯০ টাকায়। তবে নাজিরশাইল চালের দাম এখনো আগের মতোই আছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে চালের দাম বাড়ছে।

কমছে শীতকালীন সবজির দাম

বাজারে সরবরাহ বাড়ায় কমেছে শীতকালীন সবজির দাম। গতকাল একেকটি ফুলকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, শিম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। করলার দাম কমে ৫০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ও মুলার দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে নেমেছে। কাঁচা মরিচের দাম কমে হয়েছে ৮০ টাকা কেজি।

তবে বেড়েছে টমেটোর দাম। মিরপুর-৬ নম্বর কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা জুয়েল খন্দকার বলেন, এক সপ্তাহ আগে ২৫-২৬ কেজির এক ক্রেট টমেটোর দাম ছিল ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। গতকাল তা কিনতে হয়েছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায়।

শীতকালীন শাকের দামও কমেছে। মূলা, পালং ও শর্ষেশাকের আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা এবং লালশাক, ডাঁটাশাক ও পাটশাকের আঁটি ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম গত সপ্তাহের মতো অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।