
সাত কলেজের জন্য প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আজ বুধবার রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড়সহ তিনটি স্থানে অবরোধ কর্মসূচি হলো। সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের ডাকে এই কর্মসূচি হয়।
বেলা ১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধ শুরু হয়। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয় দুপুর পৌনে ১২টায়।
বেলা ১টার দিকে তিতুমীর কলেজের কিছু শিক্ষার্থী মহাখালী এলাকায় ১০ মিনিট সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে তাঁরা সড়ক ছেড়ে দেন। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর প্রথম আলোকে এই তথ্য জানান।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালকেরা।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড় ছাড়েন বলে জানান দারুসসালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুর রহিম।
বেলা সোয়া ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা তাঁতীবাজার মোড় ছাড়েন বলে জানান বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল হোসেন।
পুলিশের নিউমার্কেট অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শওকত আলী বিকেল ৪টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার অন্যান্য স্থান থেকে শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাবে এসে কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীর দাবি, আগামীকাল বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের হালনাগাদ খসড়া অনুমোদনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
সায়েন্স ল্যাবে অবরোধের কারণে যানজটে পড়েন অনেক যাত্রী। তাঁরা গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে যেতে থাকেন। তাঁদের একজনের সঙ্গে কথা প্রথম আলোর। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি নোয়াখালী। আজ নোয়াখালী থেকে এসে যাত্রাবাড়ী নামেন। এরপর আরেকটি বাসে মিরপুরের দিকে রওনা দেন। কিন্তু যানজটে পড়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে সামনের দিকে রওনা দেন।
এ রকম আরেকজন যাত্রী ঢাকার বকশীবাজার থেকে আসছিলেন বাসে। তিনিও যানজটে পড়ে বাস থেকে নেমে হেঁটে রওনা দেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের পরিমার্জিত খসড়া গতকাল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করে খসড়াটি দ্রুত সময়ের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি এবং আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে (আইনি যাচাই) উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
তবে সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকালের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের ব্যত্যয় হলে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।
সায়েন্স ল্যাব মোড়ে অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া তিতুমীর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তানভীর হাসান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন অনেক দিন ধরে চলছে। রাষ্ট্র আমাদের অরডিন্যান্স দেব দেব করে দিচ্ছে না। অরডিন্যান্স আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজন। কারণ, এখন আমাদের পরিচয়টা কী?...আমরা রাষ্ট্রের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আমাদের এই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়া হোক।’
ঢাকার এই সাত কলেজকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই সংকট চলছে। ২০১৭ সালে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই এই সাত কলেজকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়েছিল।
সরকারি কলেজগুলো হলো—ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাঙলা কলেজ ও তিতুমীর কলেজ।
কলেজগুলো অধিভুক্তির পর থেকেই নানা সংকট তৈরি হয়। গত বছরের জানুয়ারিতে সাত কলেজকে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা করার ঘোষণা দেওয়া হয়। কিন্তু নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্ত হওয়ার আগেই অধিভুক্তি বাতিল করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে।
এরপর এসব কলেজ একীভূত করে সরকার নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা নেয়। কিন্তু এ নিয়ে প্রস্তাবিত অধ্যাদেশের খসড়ায় (প্রথম খসড়া) থাকা কাঠামো নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নামেন।
এ রকম পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০২৫ ’-এর খসড়া পরিমার্জন করে নতুন খসড়া করেছে।
নতুন খসড়া অনুযায়ী, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও কলেজগুলো তাদের বর্তমান স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ‘সংযুক্ত’ হিসেবে কার্যক্রম চালাবে।
সহজভাবে বললে, এটি অনেকটাই এখনকার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অধিভুক্ত কলেজগুলোর ব্যবস্থার মতোই, যদিও হুবহু অধিভুক্ত নয়।