
রাজধানীর বারিধারায় গাড়িচাপায় (প্রাইভেট কার) নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আনা কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (সংশোধনাগার) পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৮–এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদির আজ বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আইনজীবী আলমগীর হোসেন বলেন, এই ঘটনায় রাজধানীর গুলশান থানায় করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই কিশোরকে গাজীপুরের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁরা জামিনের আবেদন করবেন।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকেলে, বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে। গাড়িচাপায় নিহত হন মেহেদী হাসান (২৪) নামের নির্মাণশ্রমিক। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে।
ঘটনার সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার উঠে যায় সেই ফুটপাতে। গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান মেহেদী।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিল উপস্থিত লোকজন। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রথমে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
‘চালকের আসনে ছিল কিশোর, মামলায় আসামি আরেকজন’—এই শিরোনামে গতকাল বিকেলে প্রথম আলো অনলাইনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কিশোরের সম্পৃক্ততা পায়। পরে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয় বলে জানায় পুলিশ। তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। এখন তাকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিলেন আদালত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। বয়স ১৭ বছর। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। আর দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।