সীমান্ত হত্যা ও হামে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১১ মে ২০২৬
সীমান্ত হত্যা ও হামে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১১ মে ২০২৬

সীমান্ত হত্যা ও হামে শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির মানববন্ধন

সীমান্তে হত্যা, হামের টিকার অব্যবস্থাপনা এবং শিশুমৃত্যুর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এ কর্মসূচি পালন করে।

মানববন্ধনে ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা ‘হাসপাতালে শিশু মরে, সরকার কী করে’, ‘সীমান্তে মানুষ মরে, সরকার কী করে’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এ ছাড়া ছাত্রশক্তির নেতা–কর্মীদের হাতে ‘হামের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে’, ‘আর কত ফেলানীর লাশ বইবে বাংলাদেশ’, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’, ‘হামে ৪০০ শিশুমৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে’ লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাস পার হলেও তারা দেশকে ‘মব’মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারেনি।

হামের মহামারিতে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহমিদ বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে হাম আউটব্রেকের (প্রাদুর্ভাব) কারণ বের করা হোক। অতি দ্রুত স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা জারি করে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান করতে হবে।’

বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ছাত্রশক্তির এই নেতা আরও বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার তাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে বাংলাদেশ সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টির নির্দেশ দিচ্ছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা ও ভারতের আগ্রাসী নীতির বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নীরবতাকে তিনি ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আসিয়া আক্তার বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও স্বনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করবে। অন্তর্বর্তী সরকার এটি বজায় রাখলেও বর্তমান নির্বাচিত সরকার যে “নতজানু” নীতি দেখাচ্ছে, তার প্রতি ধিক্কার জানাই।’

এ সময় আসিয়া আক্তার বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতে যে উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তাঁর কোনো কার্যক্রম আমরা দেখিনি। সেই একই ধারা বজায় রেখেছে বিএনপি। তারা যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বসিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো ধরনের কার্যক্রম বা পদক্ষেপ কিংবা কোনো বক্তব্য আমরা দেখিনি।’

ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে যাঁরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়েছিলেন, তাঁরা আজ সীমান্ত হত্যা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। তাঁদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তাঁদের জন্য সবার আগে দিল্লি ছিল।