দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সমাগম ছিল হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তায়। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে
দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সমাগম ছিল হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তায়। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে

বৈচিত্র্যময় পণ্যের মেলা

দ্বিতীয় দিনে দর্শনার্থী সমাগমে মুখর হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা

রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে চলছে হাল ফ্যাশন ঈদ ফিয়েস্তা ২০২৬। মেলায় বিভিন্ন দেশীয় পণ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন ৫৮ জন উদ্যোক্তা। তিন দিনব্যাপী এ মেলার সোমবার ছিল দ্বিতীয় দিন। এদিন দুপুর থেকে দর্শনার্থী সমাগমে জমে ওঠে মেলা।

গতকাল রোববার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশের ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল ওয়েব পোর্টাল ‘হাল ফ্যাশন’ দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করছে ঈদ ফিয়েস্তা। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে এই মেলা। সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত আসা যাবে মেলায়।

মেলায় ১২টি প্যাভিলিয়নে সাজানো হয়েছে ৫৫টি স্টল। সোমবার ডিজাইনারস ডে নামের আয়োজন রাখা হয় মেলায়। এতে ১০ জন ডিজাইনার মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।

পোশাক, গয়না, উপহারসামগ্রী, ঘর সাজানোর উপকরণ, খাবারসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে মেলায় অংশ নিয়েছে দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো।

পোশাকে সৃজনশীল কাজ করেছেন উদ্যোক্তারা। শার্ট, প্যান্টের মতো প্রচলিত পোশাকগুলোতে নকশিকাঁথার ফিউশনধর্মী কাজ করেছে ‘নকশা মিস্ত্রী’। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন চরিত্রের মোটিফ কাপড়ে ফুটিয়ে তুলেছে ‘দিশাজ রোড ব্লক’। শাড়ির পাড়ে পাটের বুননের কাজ নিয়ে এসেছে ‘শাড়ি কথন’ নামের একটি দেশীয় ব্র্যান্ড।

মেলায় ঘুরতে এসেছেন মেহেদী হাসান। সঙ্গে বন্ধু জাহিদুল ইসলাম। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ঘুরে দেখছিলেন মেলার বিভিন্ন স্টল। মেহেদী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বন্ধুকে নিয়ে এলাম। ও আসতে চায়নি। এসেছি দুটি কারণে। একটা তো মেলা দেখা। ঘুরছি, জামদানির একটা পাঞ্জাবি ভালো লেগেছে। আর আমারও একটা উদ্যোগ শুরুর করার ইচ্ছা। সে জন্য একটু দেখতে আসা।’

ঈদ উপলক্ষে খাদির ওপর এমব্রয়ডারি করা শাড়ি এবং পাঞ্জাবি এনেছে ‘মিতার গল্প’। এর উদ্যোক্তা মাসুমা আক্তার পেশায় একজন আইনজীবী। তিনি আইন থিমের নানা মোটিফ নিয়েও কাজ করেছেন তাঁর পণ্যে। মাসুমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মেলার মাধ্যমে একেবারে ছোট উদ্যোক্তারাও প্রচার পাচ্ছেন। আয়োজনটা সুন্দর হয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ আসলে।’

পোশাক, গয়না, গৃহসজ্জার নানা উপকরণ দিয়ে স্টল সাজিয়েছেন দেশি উদ্যোক্তারা। সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে

পোশাক ছাড়াও মেলায় আছে গয়নার স্টল। জামদানি, নকশিকাঁথা, মাটি, গামছা, কাঠ ও পিতলের তৈরি বিভিন্ন গয়না পাওয়া যাবে এসব স্টলে। দয়ীতা, মল্লিকা, পসরা, বিমূর্ত, কাদম্বরী, কারু নগরী এনেছে এসব পণ্য।

তিন মেয়েকে নিয়ে মেলায় ঘুরছিলেন প্রভা ধর। শাড়ি কিনেছেন তিনি। মেয়েদের জন্য দেখছিলেন মাটির তৈরি গয়না। তিনি বলেন, ‘আমরা শাড়ি দেখেছি বেশি। দোকানের চেয়ে এখানে একসঙ্গে সংগ্রহ বেশি। কোয়ালিটিও ভালো মনে হচ্ছে।’

মেলায় বাহারি নামের আচারের স্টল দিয়েছে ‘আঁচারি’। ‘রেডি টু ইট’ খাবার নিয়ে এসেছে ‘নবাবী’। বিরিয়ানি, তেহারি, খিচুড়ি, শর্ষে ইলিশের মতো ১০টি খাবার এনেছে তারা। প্যাকেটজাত এই খাবারগুলো রান্না করার কোনো ঝামেলা নেই। কেবল গরম করে নিলেই খাওয়া যাবে।

মেলায় ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নানা আয়োজন। মেলায় থাকছে র‍্যাফল ড্রর আয়োজন। এ ছাড়া মেলায় আসা দর্শনার্থীরা জিততে পারেন পাঁচ তারকা হোটেলের ‘কাপল কুপন’। এ জন্য মেলার নির্দিষ্ট ফটোবুথে ছবি তুলে তা #haalfashioneidfiesta2026 ও #haalfashionista হ্যাশট্যাগ দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত পাঁচজন পাবেন এ কুপন।

হাল ফ্যাশনের পরামর্শক শেখ সাইফুর রহমান জানান, প্রথম দিনের তুলনায় দ্বিতীয় দিন দর্শনার্থী বেশি। দর্শনার্থীরা কেনাকাটাও করেছেন। মেলার এ উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির অংশ। তাঁরা জিডিপিতে অবদান রাখছেন। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা তাঁদের সে স্বীকৃতি দিতে চেষ্টা করেছি। উদ্যোক্তারা আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা এ আয়োজনে খুশি।’