রাজধানীর মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘলাইন। ৯ এপ্রিল ২০২৬, পরিবাগ
রাজধানীর মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘলাইন। ৯ এপ্রিল ২০২৬, পরিবাগ

দুই দফায় ১৯ ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল পেলেন প্রাইভেট কার চালক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হচ্ছে বলে ঘোষণা আসার পরও রাজধানীতে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। প্রাইভেট কার (ব্যক্তিগত গাড়ি) ও মোটরসাইকেল নিয়ে চালকেরা তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের মতো আজও তেলের জন্য প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি।

বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে মোহাম্মদ পিন্টু নামের এক প্রাইভেট কার চালকের সঙ্গে প্রথম আলোর কথা হয়।

মোহাম্মদ পিন্টু বলেন, তেলের জন্য গতকাল বুধবার সকাল ৯টার সময় রাজধানীর পরিবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি যখন সেখানে যান, তখন গাড়ির লাইন ছিল পরিবাগের ভেতরের একটি সড়কে। এরপর হাতিরপুল কাঁচাবাজার, কাঁটাবন, শাহবাগ হয়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে আসতে আসতে সন্ধ্যা ৭টা বেজে যায়। তখন ফিলিং স্টেশন থেকে জানানো হয় তেল নেই। বাধ্য হয়ে বাসায় ফিরে যান তিনি।

আজ সকাল ছয়টার সময় আবার লাইনে দাঁড়ান মোহাম্মদ পিন্টু। হাতিরপুল কাঁচাবাজার থেকে ঘুরে শাহবাগ হয়ে ফিলিং স্টেশনের সামনে আসতে আসতে বেলা তিনটা বেজে যায়। তিনটার পর অবশেষে তেল নিতে পারেন এই চালক।

মোহাম্মদ পিন্টু প্রথম আলোকে বলেন, ‘গতকাল সাতটা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। আজ আবার ভোর ছয়টায় সেই লাইনে দাঁড়িয়েছি। আসলে কিছু করার নেই।’

রাজধানীর এইচ কে ফিলিং স্টেশনে গিয়েও দেখা যায় একই চিত্র। ৯ এপ্রিল ২০২৬, আরামবাগ

পরিবাগের এই মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনে ৩৩২টি মোটরসাইকেল ও ১৯২টি প্রাইভেট কারকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।

সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তখনো পাম্পে তেল আসেনি। তবে সকাল থেকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেক মানুষ। ৯৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৭টি প্রাইভেট কার তেলের অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।

দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর আরামবাগের এইচ কে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ১৪৫টি প্রাইভেট কার ও ১৩০টি মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে তখন পর্যন্ত ফিলিং স্টেশনে তেল এসে পৌঁছায়নি।

সবার আগে ভোর পাঁচটার সময় তেলের জন্য এই পাম্পে এসে লাইনে দাঁড়ান প্রাইভেট কার চালক নায়েব আলী। ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তেল পানি তিনি। নায়েব আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভোর পাঁচটার দিকে সবার আগে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন পর্যন্ত তেল পাইনি। পাম্পের লোকজন বলেছে দুপুর ১২টার সময় তেল আসবে। এরপর তেল পাবো।’

বেলা ১টার দিকে মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের লাইন মতিঝিল থেকে ঘুরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে প্রাইভেট কারের লাইন দৈনিক বাংলা মোড় পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।

বেলা দেড়টার সময় রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থিত রমনা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ১৫২টি প্রাইভেট কার ও ১৯৫টি মোটরসাইকেলের চালক তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন।

এই স্টেশনে সকাল ৯টায় তেলের জন্য দাঁড়িয়েছেন মো. ইয়াছিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সকাল ৯টায় তিনি যখন লাইনে দাঁড়ান, তখন গাড়ির লাইন ছিল মৎস্য ভবনের কোনায়। প্রেসক্লাব, সেগুনবাগিচা হয়ে ঘুরে ফিলিং স্টেশনের সামনে এসে জানতে পারেন তেল শেষ।

মো. ইয়াছিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেই ৯টায় লাইনে দাঁড়িয়ে ঘুরে ঘুরে এখন পর্যন্ত এসে শুনি তেল শেষ। আমার সামনে চারটা গাড়ি আছে। পাম্পের লোকজন বলেছে, তেল শেষ। তেল আসতে তিন থেকে চার ঘণ্টা লাগবে। আপনারা থাকলে থাকতে পারেন। আমরা তেলের জন্য অপেক্ষা করছি।’

তেলের ঘাটতির বিষয়টা সরকার সমাধানের উদ্যোগ নিলে এমন ভোগান্তি হতো না বলে উল্লেখ করেন এই প্রাইভেট কার চালক।