
ভারী বৃষ্টির কারণে আজ রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে শুরু হওয়া বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। এতে বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন। ছাত্রীদের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ও বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হলে বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে।
হলের নারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ওই হলগুলোয় খাওয়ার পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক ক্লাব, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হল, নীলক্ষেত এলাকা, পলাশীর মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা গেছে।
বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আনিকা তামজিদ বলেন, বৃষ্টিতে এত পানি জমেছে যে হলের কোনো শিক্ষার্থীই বের হতে পারছেন না। সকাল থেকে হলে বিদ্যুৎ নেই এবং খাওয়ার পানিও প্রায় শেষ হওয়ার উপক্রম। সন্ধ্যা হলে আলো জ্বালানোর ব্যবস্থাও নেই।
এই শিক্ষার্থী আরও বলেন, জলাবদ্ধতার মধ্যেও পরীক্ষা পেছানো হয়নি। কষ্ট করে এই পানির মধ্যে গিয়েই পরীক্ষা দিতে হয়েছে। পরীক্ষার আগে ডিভাইস থেকে পড়াশোনা করাও সম্ভব হয়নি। কারণ, বিদ্যুৎ ছিল না।
ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহফুজা খাতুন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফজিলাতুন্নেছা হল, মৈত্রী হল ও সমাজকল্যাণ অনুষদের পানির সমস্যা সমাধান হয়নি, নেই কোনো উদ্যোগও। দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। এর মধ্যেই পরীক্ষা, ভাইভা, থিসিস জমা দিতে হচ্ছে দুই হলের মেয়েদের। বিকালে বৃষ্টি না থাকলেও রয়েছে প্রশাসনের অবহেলা, সিটি করপোরেশনের দেখা নেই।’
প্রতিবছরই ভারী বর্ষণে এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলে মনে হয় উল্লেখ করে মাহফুজা লিখেছেন, ‘এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক বা মধ্য-দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।’
বাংলাদেশ–কুয়েত মৈত্রী হলের প্রাধ্যক্ষ মাহবুবা সুলতানা বলেন, হলের পানি কিছুটা কমেছে, কিন্তু এখনো বিদ্যুৎ–সংযোগ দেওয়া হয়নি। পানি পুরোপুরি না সরলে বিদ্যুৎ–সংযোগ দিলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, তাই সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। খাওয়ার পানির সমস্যা অনেকটা সমাধান করা হয়েছে।
সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় যোগাযোগ করা হয়েছে বলে সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, পানির সমস্যার সমাধান হয়েছে, তবে বিদ্যুতের সমস্যা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে।
অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী আরও বলেন, ছাত্রছাত্রীরা যে পরীক্ষা পেছানোর কথা বলছেন, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কারণ, শিক্ষার্থীরা অনেক কষ্টের মধ্যে আছেন এবং সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারছেন না।