
ইজারাদার হাটের শর্ত ও নিয়মাবলি না মানলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানিয়েছেন, কোনো হাট ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে গেলে, যানজট বা জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএনসিসি এলাকায় কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আজ বুধবার দুপুরে ইজারাদার এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার সমন্বয় সভায় প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান এই হুঁশিয়ারি দেন। রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটির নগরভবনে আয়োজিত এ সভায় হাটের ইজারা পাওয়া ব্যক্তিদের আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, প্রতিটি কাজের জন্য কিছু শর্ত থাকে। পশুর হাটের ক্ষেত্রেও প্রায় ৩৯টি শর্ত দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিয়াবাড়িতে পশুর হাট নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সেখানে এখনও বেচাকেনা শুরু হয়নি উল্লেখ করে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, কেবল প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। হাট চালুর আগেই বড় পরিসরের অবকাঠামো তৈরি করতে কিছু সময় লাগে। তাই ইজারাদারেরা আগেভাগে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে হাট নির্ধারিত সীমানার বাইরে চলে গেলে বা সড়কে ছড়িয়ে পড়লে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে।
পাঁচ দিন আগে থেকে হাট বসানোর নিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো বেচাকেনা বা কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে।
প্রশাসক বলেন, দুর্ঘটনা এড়াতে এবার রেললাইন, উড়ালসড়ক বা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের আশপাশে কোনো হাট বসতে দেওয়া হয়নি। সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব হলো—ইজারা দেওয়া হাটগুলো শর্ত মেনে পরিচালিত হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা। নির্ধারিত হাটের বাইরে কোথাও অবৈধভাবে পশু বেচাকেনা হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসক বলেন, প্রতিটি হাটে নির্দিষ্ট জায়গায় প্রতিদিনের বর্জ্য জমা রাখতে হবে, যাতে সিটি করপোরেশনের গাড়ি সহজে তা অপসারণ করতে পারে। নির্দিষ্ট স্থানে ছোট একটি সাইনবোর্ড বা ব্যানার লাগিয়ে রাখতে হবে, যাতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সহজে জায়গাটি শনাক্ত করতে পারেন।
এ সময়ে হাটের ইজারা পাওয়া ব্যক্তিরা হাট পরিচালনায় ঢাকা উত্তর সিটির কাছ থেকে বিভিন্ন সহযোগিতা চান। কোনো ইজারাদার জানান, হাটের পানিনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো নয়, কেউ বলেন হাটের নির্ধারিত জায়গা নিচু, বালু ফেলতে হবে, কেউ কেউ আবার হাটে পশুচিকিৎসক চান। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রশাসক।
অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর ও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শওকত ওসমান উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা উত্তরে যেসব হাট
ঢাকা উত্তর সিটি এলাকায় একটি স্থায়ী (সারা বছর বসে) পশুর হাট রয়েছে। এটি গাবতলী গবাদিপশুর হাট। এ হাটের ইজারা পেয়েছেন হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ।
এ ছাড়া বছর ডিএনসিসি এলাকায় অস্থায়ী ১০ হাটের ইজারাপ্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—মিরপুর সেকশন ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)-এর খালি জায়গায় হাট, ইজারাদার সিরাজুল ইসলাম। মিরপুর কালশী বালুর মাঠের (১৬ বিঘা) খালি জায়গা হাট, ইজারাদার রেদোয়ান রহমান। ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-সংলগ্ন খালি জায়গায় হাট, ইজারাদার আমিনুল ইসলাম। পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার ইকরা মাদ্রাসার পাশের খালি জায়গার হাট, ইজারাদার এম আসলাম।
এ বছরের উত্তরা দিয়াবাড়ি ১৬ ও ১৮ নম্বর সেক্টর-সংলগ্ন বউবাজার এলাকার খালি জায়গার হাটের ইজারাদার শেখ ফরিদ হোসেন। ডিএনসিসি ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড কাঁচকুড়া বাজার-সংলগ্ন রহমান নগর হাট, ইজারাদার রফিকুল ইসলাম সরকার। খিলক্ষেত থানাধীন মস্তুল চেকপোস্ট-সংলগ্ন পশ্চিম পাড়ার খালি জায়গার হাট, ইজারাদার বিল্লাল হোসেন। খিলক্ষেত বনরূপা আবাসিক প্রকল্পের খালি জায়গায় হাট, ইজারাদার আবুল কালাম আজাদ। বাড্ডা থানার অন্তর্গত স্বদেশ প্রপার্টির খালি জায়গায় হাট, ইজারাদার তুহিরুল ইসলাম। বড় বেরাইদ বসুন্ধরা গ্রুপের খালি জায়গায় হাট, ইজারাদার আতাউর রহমান।
এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা উত্তর সিটিতে আরও একটি হাটের দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়েছে। হাটটি হচ্ছে—৩০০ ফুট সড়ক সংলগ্ন ডুমনি মৌজার যমুনা গ্রুপের খালি জায়গার হাট। এ হাটের সরকারি মূল্য ছিল ৬০ লাখ টাকা। আজ হাটের মূল্যায়ন কমিটি বসে ওই হাটের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে বলে সভায় জানানো হয়।