প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

প্লাস্টিক দূষণ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যা যা করা দরকার সব করব: পরিবেশমন্ত্রী

গত ২৮ বছরে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৮০ গুণ বেড়েছে জানিয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমরা অন্যান্য দেশের তুলনায় খারাপ অবস্থায় আছি। আজকে যে ডেঙ্গুর বিস্তার, সেটাও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্লাস্টিকের এ দূষণ থেকে জাতিকে মুক্ত করতে যা যা করা দরকার, সব করব। এ নিশ্চয়তা আপনাদের দিতে পারি।’

আজ বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশমন্ত্রী এ কথা বলেন। ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক যৌথভাবে আয়োজন করে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্লাস্টিক একটা ভয়াবহ দুর্যোগ তৈরি করছে আমাদের জন্য। স্বাস্থ্যহানির পাশাপাশি এটি জলাবদ্ধতা তৈরি করছে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে ৬ থেকে ৮ ফুট প্লাস্টিকের স্তর জমে আছে।’

প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে এর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইপিআরের প্রশংসা সবাই করলেও এর মূল চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সাল—এই ২৮ বছরে দেশে প্লাস্টিকের ব্যবহার ১৫ হাজার টন থেকে বেড়ে ১৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। ফলে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ৮০ গুণ। জাতিকে এ দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে যা যা করা দরকার, তার সবই সরকার করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

গত আগস্টে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক নির্দেশিকা তৈরি করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এই নির্দেশিকার আওতায় ব্যবহৃত বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্চক্রায়নে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কার্যকর দায়িত্ব নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

গোলটেবিল বৈঠকে (বাঁ থেকে) সুমাইয়া টি আহমেদ, মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, আজমান আহমেদ চৌধুরী, মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিরিন লিরা, আবদুল্লাহ আল মামুন ও সামিম আহমেদ। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্লাস্টিক দূষণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে এ বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনা এককভাবে কারও পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ জন্য উৎপাদক, ভোক্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বেসরকারি খাতের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে উৎসেই বর্জ্য পৃথক্‌করণ এবং বর্জ্য সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত অনানুষ্ঠানিক খাতকে মূলধারায় নিয়ে আসার ওপর জোর দেন তাঁরা। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্লাস্টিকের উৎপাদন, ভোগ ও আমদানির বিষয়ে সরকারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত থাকার তাগিদ দেওয়া হয়।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ আয়োজনে ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ব্যবস্থাপনা: উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর–২০২৬)’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা। কারওয়ান বাজার, ঢাকা। ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ওয়াটারএইড বাংলাদেশ মূলত সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এ দুটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে সংস্থাটির কান্ট্রি ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিকের জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি বর্তমানে বড় সংকটে রূপ নিয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় ইপিআর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

প্লাস্টিক দূষণের কারণে পানির উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সামগ্রিক পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে উল্লেখ করে আজমান আহমেদ চৌধুরী তৃণমূল পর্যায়ে ইপিআর বাস্তবায়ন, উৎসে বর্জ্য পৃথক্‌করণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।