
আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন ও সংস্কৃতিকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদ’। ‘শব্দে জাগরণ কণ্ঠে বাংলাদেশ’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠন শুদ্ধ বাংলা উচ্চারণচর্চা, কবিতা আবৃত্তি এবং জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করবে।
বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে সংগঠনটি। সেখানে সংগঠনটি কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।
আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় আবৃত্তি পরিষদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান। আর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আবৃত্তিশিল্পী এনামুল হক জুয়েল।
সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ কামরুল আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, ‘বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে আবৃত্তি একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে কবিতা ও আবৃত্তি মানুষের চেতনা, সাহস ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিশু, কিশোর ও তরুণদের জন্য আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ, কর্মশালা, উৎসব এবং নেতৃত্ব বিকাশমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে সংগঠনটি। পাশাপাশি জাতীয় শিশু আবৃত্তি একাডেমি, জাতীয় শিশু আবৃত্তি অলিম্পিয়াড, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আবৃত্তি নেটওয়ার্ক, জাতীয় আবৃত্তি চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ডিজিটাল আবৃত্তি উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে তাঁরা।
একই সঙ্গে দেশের প্রবীণ আবৃত্তিশিল্পীদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণ ও সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে জাতীয় উপদেষ্টা পরিষদ, আজীবন সম্মাননা, ফেলোশিপ, ডিজিটাল আর্কাইভ এবং মেন্টরশিপ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে সদ্য আত্মপ্রকাশ করা এই সংগঠন। সংগঠনের নেতারা দেশের সব আবৃত্তিশিল্পী, আবৃত্তি সংগঠন, কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যম, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সংস্কৃতিপ্রেমী নাগরিকদের এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, এই সংগঠনের উদ্দেশ্য হবে ইতিহাসের সঠিক ধারা বজায় রাখা এবং ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে কবিতা ও শিল্প-সাহিত্যকে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন তাঁর বক্তব্যে দেশের কবিদের মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা বাইরের কবিতাও পড়তে পারবেন। কিন্তু আমার দেশের কবিদের কবিতা আগে পড়তে হবে। এটি দেশাত্মবোধের প্রমাণ।’
চলচ্চিত্র অভিনেতা হেলাল খান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তৃণমূল থেকে শিল্পী তৈরির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি গ্রাম থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, নাটকের শিল্পী, গানের শিল্পী তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তৃণমূল থেকে উঠে আসা শিল্পীদের মূল্যায়নের আহ্বানও জানান।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, রাজনীতি ও সমাজের সুস্থতা বজায় রাখতে সংস্কৃতিচর্চার কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে কবিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কবিতা হচ্ছে সবচেয়ে সূক্ষ্মতম ও কঠিন একটি শিল্প।
অনুষ্ঠানে প্রকৌশলী জাকির হোসেন, আইনজীবী নাসিম আহমেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।