
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টা এবং নারী শিক্ষার্থীদের লাগাতার যৌন হেনস্তার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্য চত্বরে সংহতি জানিয়ে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সংহতি সমাবেশে শিক্ষার্থীরা, ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষক ঘোরে, প্রশাসন কী করে?’, ‘বাহ প্রশাসন চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা শালীনতার নাম করে নৈতিক পুলিশিং বন্ধ করা, যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা, জাবি প্রক্টর রাশিদুল আলমের পদত্যাগসহ নানা দাবি–সংবলিত ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইভান তাহসীব বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়তে আসা শিক্ষার্থীরা যারা হলগুলোতে থাকে, তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে? প্রক্টরের ভূমিকা কী তাহলে? নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মানে কী তাহলে? একের পর এক নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। আমাদের ক্যাম্পাসে গতকাল শালীনতার নাম করে দুজন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
ইভান তাহসীব আরও বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা প্রবলভাবে চেষ্টা করছে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে। আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শক্তভাবে বলতে চাই, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের পদত্যাগ, নিরাপদ ক্যাম্পাসের দাবিসহ ছয় দফা দাবিতে আমরা পূর্ণ সংহতি জ্ঞাপন করছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামসুল আলম মারুফ বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মধ্যযুগীয় ঘটনা ঘটেছে এবং প্রশাসন সেখানে নির্বিকার ভূমিকা পালন করেছে। যেখানে তাদের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তা না করে তারা সেখানে শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন করছে।
১২ মে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।